রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা-১১, ১২ ও ১৭ আসনের থানা দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে সরকারদলীয় দুই নারী সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গণমাধ্যমে তাদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পরও কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন দেশ চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। রাড্ডার ঘটনায় অপরাধীদের সরকার ছাড় দিলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।’
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিতেন, তাদের বড় একটি অংশ অসহায় নারী ও শিশু। গাজায় হাসপাতাল হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিএনপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিদেশি অনুদানের মাধ্যমেও পরিচালিত হয়। ফলে সরকার যদি আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে দেশে বিদেশি সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য এখন নতুন করে গণভোটের কথা বলছেন। অথচ জামায়াত নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছিল।
তার দাবি, বিএনপি তখন জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের কথা বলেছিল। এখন আগের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নতুন করে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে ‘হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের চেষ্টা’ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণ নতুন করে গণভোট মেনে নেবে না। কারণ জনগণ আগেই তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।’
রেজাউল করিম আরও বলেন, জামায়াতের লংমার্চগুলো সরকার পতনের জন্য করা হয়নি; বরং জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে করা হয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওতে হামলা হয়েছে, যিনি প্রধানমন্ত্রীর এলাকার ভোটার। অথচ সেখানেও তার নিরাপত্তা নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের কথা পরিষ্কার—যে বা যারা এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তদন্তে যার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সরকারের প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের দুর্ভোগের কার্যকর সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গুলশান অঞ্চল পরিচালক ইয়াসিন আরাফাত, হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হেদায়েত উল্লাহসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর