জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে হঠাৎ রোনালদোর চলে যাওয়া ঘিরে এবার সামনে এসেছে শাস্তির শঙ্কাও। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়েছেন অধিনায়ক। আর অনুমোদিত কারণ ছাড়া জাতীয় দলের কার্যক্রম ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। খবর গোল ডটকমের।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে না রেখে বেঞ্চে রেখেছিলেন জেসুস। এরপর কোচের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর বুধবার জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগালের অধিনায়ক।
পরে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোএন্সার সঙ্গে আলোচনা করেন রোনালদো। তবে বৈধ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।
এফপিএফের শৃঙ্খলা বিধিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত কারণ ছাড়া জাতীয় দলের অনুশীলন, ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ছেড়ে গেলে কোনো খেলোয়াড়কে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পেশাদার খেলোয়াড় হলে ৫০০ থেকে ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
রোনালদোর সঙ্গে জেসুসের বিরোধের সূত্রপাত নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। ওই ম্যাচে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে নামাননি কোচ। এরপর কোপেনহেগেনে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানান জেসুস।
তিনি বলেন, ‘আমি যা চাই তা বলতে পারি। আমি ম্যানেজার, আমি কোচ। আমি খেলোয়াড়কে জানিয়েছি সে খেলবে না। তাকে বেঞ্চে রাখব। যদি ৩০ মিনিটের জন্য প্রয়োজন হয়, তাহলে খেলবে। না হলে খেলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো খেলোয়াড় আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না। সে হোক বা ফুটবলের অন্য কেউ। কোনো সভাপতিও না। কখনোই না।’
কোচের এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বুধবার পারকেন স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনেও অংশ নেননি রোনালদো। ফেডারেশন অবশ্য অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা শুধু অনুশীলনের আপডেটে জানায়, জোয়াও ফেলিক্স দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, তবে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ও রোনালদো অনুশীলন করেননি।
এর আগে মঙ্গলবারও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি রোনালদো। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের স্কোয়াড থেকেও বাদ পড়েছেন পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এদিকে ক্যাম্প ছাড়ার পর নিজের সিদ্ধান্তের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন রোনালদো। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং এফপিএফ সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে যথাসময়ে পর্তুগিজদের তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
তাই আপাতত রোনালদোর সামনে দুটি প্রশ্ন—ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, আর জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর