পাহাড়ের দুর্গম সীমান্ত চিরে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা মাদকের বড় চালানগুলো শেষ পর্যন্ত আগুনে ছাই হলো। খাগড়াছড়ির সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলো থেকে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) সদর দপ্তরের মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ ও কড়া নিরাপত্তায় এই ধ্বংসকরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। গুইমারা বিজিবি সেক্টরের আয়োজনে এবং রামগড় ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সেক্টরের আওতাধীন তিনটি ব্যাটালিয়নের চার বছরের অর্জিত সাফল্যের একটি বড় চিত্র ফুটে ওঠে।
বিজিবি সুত্র জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন চোরাই পথ ও সীমান্ত পয়েন্টে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এসব বিষাক্ত মাদক উদ্ধার করা হয়।
ধ্বংস করা মাদকের তালিকায় ছিল- ফেনসিডিল, নামীদামী ব্যান্ডের ভারতীয় মদ, বিয়ার, দেশি বাংলা মদ, মরননেশা ইয়াবা, গাঁজা, নিষিদ্ধ মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ও বিপুল পরিমাণ চোরাই সিগারেট।
এর মধ্যে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) কর্তৃক জব্দ করা ৫৯৬ বোতল ফেনসিডিল, ৩ হাজার ৭৮২ বোতল ভারতীয় মদ, ৭০ বোতল ও ১৩৩ ক্যান বিয়ার, ১৫ লিটার বাংলা মদ, ১২ হাজার ৭২০ পিস ইয়াবা এবং প্রায় ৬৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা ধ্বংস করে।
খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) কর্তৃক জব্দ করা ৪৩০ বোতল মদ, ১৭৫ ক্যান বিয়ার, ১১ কেজির বেশি গাঁজা, ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৩ পিস বিভিন্ন মাদকজাতীয় ট্যাবলেট এবং ৫ হাজার ৩০৯ প্যাকেট সিগারেট বিনষ্ট করে। এবং যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) কর্তৃক জব্দ করা ৪৪৬ বোতল ভারতীয় মদ, ৩৪ বোতল ও ২৪ ক্যান বিয়ার, ৩.৫ লিটার বাংলা মদ, মদ তৈরির ৫২০ পিস বিশেষ ট্যাবলেট, ১ হাজার ৩৯৬ পিস ইয়াবা এবং ৩০ কেজি গাঁজা আগুনে পোড়ায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহেল আহমেদ, পিবিজিএম, পিএসসি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, 'সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান রোধে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স। পাহাড়ের দুর্গম পথ ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না। মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিককেও এগিয়ে আসতে হবে।'
রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, পিএসসির সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন গুইমারা বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মিজানুর রহমান, খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, খাগড়াছড়ি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর