জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পী চূড়ান্তের চিত্রকর্ম নিয়ে ‘দেয়ালজুড়ে সাদা নৈঃশব্দ’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন গণকৃষ্টি।
শুক্রবার ৯ থেকে ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ৬০টির অধিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে থাকা চিত্রকর্মগুলো শিল্পী চূড়ান্তের বিচিত্র যাত্রাকালের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস, রোগ ও চিকিৎসাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা, গণমানুষের জীবনসংগ্রাম, নিপীড়িত মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধি এসব চিত্রকর্মে উঠে এসেছে।
গণকৃষ্টির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মায়মনা বিনতে সাইফুল বলেন, ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাসের সময় শিল্পীর তীব্র যন্ত্রণা ও অভিজ্ঞতা সুস্থ মানুষের পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা কঠিন। সেই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থাকে মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি, নিপীড়িত মানুষের কথা এবং সংবেদনশীলতার নতুন উপলব্ধির প্রতিফলনও তাঁর চিত্রকর্মে রয়েছে।
তিনি বলেন, “যেসব অভিজ্ঞতা আমরা নিজেরা অনুভব করিনি, সেগুলোর সঙ্গে দর্শকদের একটি যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা থেকেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন। এর মধ্য দিয়ে সুস্থ ও অসুস্থ মানুষের আলাদা হয়ে থাকা পৃথিবীর অভিজ্ঞতাগুলোকে বোঝার এবং মানুষ হিসেবে আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে আমরা আশা করছি।”
শিল্পী চূড়ান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নিজের চিত্রকর্ম সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগ, অর্থনৈতিক সংকট ও চিকিৎসাব্যবস্থার বাস্তবতা তাঁকে মানুষের বেঁচে থাকা, অসুস্থতা ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে ভাবিয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, অর্থের সংকটে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াই কতটা কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, রোগ থেকে মুক্তির জন্য রোগী, রোগীর পরিবার, চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। একটি মানবিক সামাজিক কাঠামো ছাড়া চিকিৎসা কেবল যান্ত্রিক ও নির্দয় প্রক্রিয়ায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর