• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৯ সেকেন্ড পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৫৮ দুপুর

দুবাইপ্রবাসীর ৯৬ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা যুবক, গ্রেফতার ২

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

২৬ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে দেশে ফিরে প্রথমেই কর্মচারী মো. নোমানের বাড়িতে যান সাইফুল ইসলাম। কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর পশ্চিম পুকপুকুরিয়ায় গিয়ে দেখেন, বাড়ির দরজায় তালা। প্রতিবেশীদের কাছে জানতে পারেন, নোমান স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে গেছেন। এরপর যান ডুলাহাজারায় নোমানের শ্বশুরবাড়িতে। সেখানেও দরজায় তালা। স্থানীয় লোকজন জানান, পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে চলে গেছেন।

সাইফুলের অভিযোগ, দুবাইয়ে তার দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার দিরহাম, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা, চুরি করে পালিয়ে দেশে এসেছেন নোমান। এ ঘটনায় নোমান, তার স্ত্রী, বোন, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় মামলা করেছেন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। এজাহারে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, সাইফুল দুবাইয়ে বোরকার ব্যবসা করেন। নোমান তার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরিচিতজন হওয়ায় নোমানকে বিশ্বাস করতেন সাইফুল। দুবাইয়ে তারা একই কক্ষে থাকতেন।

সাইফুলের ভাষ্য, দোকানের দৈনন্দিন বিক্রির টাকা তিনি শয়নকক্ষের একটি ক্যাশ ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। কয়েক দিন পর ওই টাকা দিয়ে দোকানের মালামাল কিনতেন কিংবা ব্যাংকে জমা দিতেন। ড্রয়ারের চাবি সব সময় নিজের কাছে রাখতেন। টাকা কোথায় রাখা হয়, তা নোমানেরও জানা ছিল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে শারীরিক ব্যায়াম করতে জিমে যাওয়ার সময় ভুল করে ক্যাশ ড্রয়ারের চাবি বিছানার বালিশের নিচে রেখে যান তিনি। তখন নোমান কক্ষেই ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে বাসায় ফিরে সাইফুল দেখেন, শয়নকক্ষের বিছানাপত্র, বালিশ ও কাপড়চোপড় এলোমেলো হয়ে আছে। কক্ষে নেই নোমানও। সন্দেহ হওয়ায় বালিশের নিচ থেকে চাবি নিয়ে ক্যাশ ড্রয়ার খুলে দেখেন, সেখানে রাখা দিরহাম উধাও। এরপর নোমানকে ফোন করেন সাইফুল। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। পরিচিতজন ও প্রবাসীদের বিষয়টি জানানোর পরও নোমানের খোঁজ পাননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।

নোমানের সন্ধান না পেয়ে দেশে পরিচিতজন ও স্বজনদের মাধ্যমে খোঁজ নিতে শুরু করেন সাইফুল। পরে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো হয়েছে।

এজাহারে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নোমানের পাঠানো ২০ লাখ টাকা চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকার মৌলভী এহছানের কাছে পৌঁছায়। পরে নোমানের বোনের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা, স্ত্রীর মাধ্যমে আরেক ব্যক্তির কাছে ১৬ লাখ টাকা এবং আতিক নামের এক হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এ ছাড়া দুটি বিকাশ নম্বরে ২ লাখ টাকা করে আরও ৪ লাখ টাকা পাঠানোর কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব মাধ্যমে ৬৯ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে।

সাইফুলের অভিযোগ, চুরি যাওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার দিরহামের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা হিসাব করলে উল্লিখিত ৬৯ লাখ টাকার বাইরে আরও ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাকি থাকে। তার ধারণা, ওই টাকা নোমান নিজে কিংবা অন্যদের মাধ্যমে দেশে এনেছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর নোমান দুবাই থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।

এজাহারে সাইফুল উল্লেখ করেন, চুরির ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে সাইফুল জানতে পারেন, হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো ২০ লাখ টাকা ডুলাহাজারার নতুন পাড়া এলাকার মৌলভী এহছানের কাছে রাখা হয়েছিল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এহছানের বাড়িতে যান সাইফুল। চকরিয়া থানার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে গিয়ে টাকা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চান তিনি।

এহছান তাকে জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নোমানের পাঠানো ২০ লাখ টাকা তার কাছে এসেছিল। আত্মীয়তার সূত্রে নোমান সাময়িকভাবে টাকা রাখার জন্য দিয়েছিলেন বলে জানান এহছান। পরে একই দিন নোমানের স্ত্রী ও শ্বশুর এসে ওই টাকা নিয়ে যান।

এজাহারে সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, টাকা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে নোমানের স্ত্রী, বোন, রমিজুর রহমান তুহিন ও শ্বশুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি চকরিয়া থানায় মামলা করেন। যার নং ০৩/৪১৮।

মামলার আসামিরা হলেন- মো. নোমান (৩৫), তার স্ত্রী মিলি আকতার (৩০), বোন উম্মে কুলছুম (৪০), রমিজুর রহমান তুহিন (২৭), শ্বশুর মীর আহমেদ (৫৫) ও শাশুড়ি জাহানারা আরজু (৫০)।

সাইফুলের দাবি, এ ঘটনায় মামলা করলে তাকে হত্যা করা এবং বিদেশে যেতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, চুরি হওয়া টাকা নোমান ও তার সহযোগীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে বিভিন্ন স্থানে রেখেছেন।

প্রবাসী সাইফুল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি নোমানকে অনেক বিশ্বাস করতাম। সেই বিশ্বাস থেকেই তাকে নিজের সঙ্গে রেখেছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। ব্যবসার জন্য ক্যাশ ড্রয়ারে রাখা ২ লাখ ৮০ হাজার দিরহাম গোপনে নিয়ে তিনি দেশে পালিয়ে আসেন। আমার কষ্টার্জিত এই টাকা হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল বলেন, 'এ মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত নোমানসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]