ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হলে ইসরায়েলের অধিকৃত ভূখণ্ডকে ‘জ্বলন্ত ভূমিতে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইসরায়েলিদের মিসরের সিনাই উপদ্বীপে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ ইংলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ বক্তব্য প্রকাশ করে।
মোহেব্বি বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে অধিকৃত ভূখণ্ডকে চিরতরে ‘জ্বলন্ত ভূমিতে’ পরিণত করা হবে এবং সেখানকার দখলদারদের সিনাই উপদ্বীপে বিতাড়িত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব দেখবে কী ঘটতে যাচ্ছে।’
তবে বিবৃতিতে ইসরায়েলের কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা কিংবা পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও নিশ্চিত করা হয়নি।
জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনেও প্রভাব ফেলছে।
রোববার ইরানের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি বলেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো আরও সুরক্ষিত স্থানে, উপযুক্ত পাহাড়ি এলাকায় স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এর আগে ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তত ১৩৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল জ্বালানি স্থাপনা, কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কমপ্লেক্স এবং সৌদি আরবের পাইপলাইন অবকাঠামো।
হরমুজ প্রণালিতে নৌপরিবহন নিয়েও উদ্বেগ
চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সাধারণত এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং নৌ চলাচল সীমিত করার ইরানি প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার জবাবে আইআরজিসির সর্বশেষ হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে ঘোষিত হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর