জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে দেশটিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কৌতুক করেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয়তমা, চলো ফ্রান্সে যাই। চমৎকার জায়গা। কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। জানেন তো, বিপ্লবের জন্য ফ্রান্স যেন দারুণ উপযুক্ত জায়গা। অবিশ্বাস্য! চলো ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য প্রস্তাবিত পাঁচ হাজার ডলারের অর্থসহায়তার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল।
এদিকে ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসন নীতি, সামাজিক সংহতি ও অভিবাসীদের আত্মীকরণ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনা করেন তিনি। তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের মূল পোস্ট ও উদ্ধৃতির যথার্থতা প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানান, রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুখোশধারী ব্যক্তিরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালান।
সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাগুলোর একটি ঘটে লিমোজ শহরে। সেখানে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো একটি টাউন হলে মুখোশধারীরা ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ভবনটির বড় অংশ পুড়ে যায়। মার্সেই ও লিল শহরের টাউন হলও ভাঙচুরের শিকার হয়। এ ছাড়া বোর্দো শহরের একটি পুলিশ স্থাপনা এবং লিয়োঁর একটি পর্যটন কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে হামলাকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মূলত মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিও যুক্ত হয়েছে। আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে চলমান অস্থিরতা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: এএফপি
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর