সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবকের। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নজরুলের বাবা-মা।
নজরুল ইসলাম বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার সাত-আট মাস পর থেকে নজরুলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি বন্দি থাকার কথা জানান। তবে কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
স্বজনদের দাবি, প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন তাঁরা। গণমাধ্যমের খবর থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
নজরুলের মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের ভাষ্য, ছেলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম। একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নজরুলের বাবা-মা।
নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। এখন কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, তাও জানি না। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁর ছেলে আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। কারাগারে থাকার সময় নজরুল তাঁকে জানিয়েছিলেন, কনস্যুলেটের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিরামপুর গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলে পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁর আইনি সহায়তা এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য চান পরিবারের সদস্যরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর