বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসবের প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ৯টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে নেমেছে।
ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএ-এর প্রধান নির্বাহী ও সম্পদ ব্যবস্থাপক বাস কুইজম্যান বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা চাপের মুখে থাকতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ বজায় থাকার পাশাপাশি কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশাও জোরালো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক। তার মতে, আগামী বছর সুদের হার বাড়ানোর যেসব সম্ভাবনা বাজারে ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কিছু বাদ পড়লে কিংবা সম্ভাবনা কমে গেলে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, ফেড চলতি অক্টোবর মাসে সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে। তবে ডিসেম্বরে আবার সুদের হার বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সময় দিতে পারেন।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর