বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের উত্তর পেঁচুল এলাকায় নিজ ছেলের বউকে অনৈতিক ও শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর ফজলুর রহমানের (৬০) বিরুদ্ধে। সে ওই গ্রামের মৃত হেকমত আলীর ছেলে ফজলু।
গতকাল বুধবার রাতে নিজ ঘরে অবস্থানকালে শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে চিৎকার শুরু করলে তিনি জানালা ভেঙে পালিয়ে যান। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে গৃহবধূ তহমিনার স্বামী নাসিম মারা যান। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে ফজলুর রহমানের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বাড়িতে শুধু ফজলুর রহমান ও তার বিধবা পুত্রবধূ তহমিনাই অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ফজলুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ সংক্রান্ত কিছু কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও তার কাছে রক্ষিত আছে বলে জানান ওই গৃহবধূ।
গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফজলুর রহমান অনৈতিক উদ্দেশ্যে পুত্রবধূর ঘরে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গৃহবধূ ঘরের দরজা লক করে বাইরে চলে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন। এ সময় ঘরে আটকা পড়ে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান জানালার কাঠ ভেঙে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর থেকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।
এলাকাবাসী বলেন, ফজলু এর আগেও এমন ঘটনা ঘটানোর কারনে মান সম্মানের কারনে পারিবারিকভাবে বলা হয়েছিল, কিন্তু আজ আবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফজলুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন বাইরে আছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলব। এরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন বলেন, অভিযোগ পায়নি পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রামবাসী জানান, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ফজলুর রহমান সুদের ব্যবসা ও স্টক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে প্রতিবেশীর এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (মুনজিলা খাতুন) ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলে শেরপুর থানা ও পরবর্তীতে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (১০৫/১৩) দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও ২০১৮ সালে করা ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে সন্তানটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়। আদালতের কঠোর নির্দেশনায় দেড় লাখ টাকা দেনমোহরে সেই বাকপ্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে ফজলুর রহমানের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি স্ত্রী ও ছয় বছরের সন্তানকে নিজ ঘরে তুলে নিতে বাধ্য হন।
পরপর দুটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ঘটনা জানাজানি হওয়ায় বর্তমানে উত্তর পেঁচুল এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর