• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৯ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৫৯ বিকাল

৫৯২ কোটি টাকায় দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস’

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র তিতাসে আরও দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার অধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মোট ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাকি ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, নতুন দুটি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পরবর্তী সময়ে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুটি কূপ থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

কোম্পানির বর্তমান ওয়েলহেড প্রাইস বা উৎপাদনস্থলের মূল্য অনুযায়ী, এই গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

তবে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বিজিএফসিএলের অধীনে ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাসে এখন পর্যন্ত ২৮টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

জরিপের তথ্য পর্যালোচনার জন্য চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দেয় বিজিএফসিএল। পর্যালোচনা শেষে প্রতিষ্ঠানটি দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

সরকারের ১৫০টি স্থলভাগের গ্যাসকূপ খনন পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে দুটি কূপ খনন করা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৩২ কোটি টাকা। তবে গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। পরে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫৯২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এতে এলএনজি আমদানির চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বাসস

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]