আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত আঁতাত এবং দলটিকে ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে দেওয়া বক্তব্যেরও প্রমাণ দাবি করেছেন জামায়াত আমির।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোথায়, কখন, কার সঙ্গে এবং কীভাবে আঁতাত হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ঢালাও বক্তব্য দেওয়া অন্যায়। এ বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করে তাঁর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ টাকা, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। এ ধরনের ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গত ১২ আগস্টের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কারও ওপর প্রতিশোধ না নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার আইনের আশ্রয় নিলে তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে এমন একটি ফটোকার্ড প্রচার করে, যেখানে দাবি করা হয়, জামায়াত আমির আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই ২২ মিনিটের বক্তব্যে তিনি একবারও ‘আওয়ামী লীগ’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। কোনো গণমাধ্যম তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা উল্লেখ থাকার প্রমাণ দিতে পারলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন বলেও জানান।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ডিও লেটারের মাধ্যমে পদ-পদবি দেওয়া এবং পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ‘ঠাকুরঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’ প্রবাদটি উল্লেখ করে তিনি অভিযোগকারীদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর