রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসালে সরাসরি মামলা করা হবে এবং জব্দ করা হবে মালামাল। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, অবৈধ দোকান সরাতে অনুরোধ করার পর্যায় শেষ হয়েছে। এখন থেকে নিয়ম অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর যানজট, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির অন্যতম কারণ অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকান। নগরবাসীকে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর সুযোগ নেই। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে আবদুস সালাম জানান, আগামী সপ্তাহেই সেখানে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পাশাপাশি সচেতনতামূলক র্যালি ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ের সামনে থাকা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থানান্তরের বিষয়ে আবদুস সালাম বলেন, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে স্টেশনটি সরিয়ে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং অবৈধ দোকান সরানোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর