বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি সরকারি নিবন্ধিত এতিমখানার আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জুলফিকার আলী জুয়েল, রুবেল ও সোহেল নামে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খুরতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুদানের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে জুলফিকার আলী জুয়েলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খুরতা গ্রামে অবস্থিত ‘মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং’ (নিবন্ধন নম্বর-১২৪৪/০৭) দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক না থাকলেও এবং ভবনটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকলেও গত দুই অর্থবছরে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা সরকারি অনুদান উত্তোলন করা হয়।
গতকাল বিকেলে এতিমখানাটি থেকে অভিযুক্ত জুয়েল ও তাঁর দুই ভাই ফ্রিজ, ফ্যান, আলমারিসহ সব আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী বাধা দিলে তাঁদের ওপর তারা হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসবাবপত্রগুলো এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় রেখে আসে।
এর আগে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মমিন।
গত ১৩ জুলাই এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছেও অনুরূপ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়, অভিযোগে বলা হয়েছে, এতিমখানাটির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী ও সহ-সভাপতি আবু রায়হান তেঁতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অচল প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ উত্তোলন করে আসছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা অনুদান তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস আলী ও মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি অনুদান আসার সময় লোক দেখাতে কয়েক দিন এতিমখানা খোলা রাখা হয়, টাকা তোলার পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই।
বর্তমান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম ইসলাম জানান, তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এতিমখানাটি তালাবদ্ধ পান এবং কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি।
তবে সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা (বর্তমানে জেলা সহকারী পরিচালক) মো. ওবায়দুল হক দাবি করেন, তাঁর সময়ে সেখানে ছাত্র ছিল, বদলির পর অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি মো. জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন, শিক্ষকরা অন্য মাদ্রাসায় চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও চলে গেছে, নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অনুদানের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই রয়েছে, আত্মসাৎ করা হয়নি।
এ ঘটনায় শেরপুর উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, টাকা আত্মসাৎ প্রমাণ হওয়ায় সেই টাকা সরকারের কোষাগারে টাকা জমা হয়েছে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর