মাদক পাচারে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে কারবারিরা। সাধারণ ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের সিটের নিচে ও পেছনের অংশে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ গোপন চেম্বার। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে মাদক বহন করা হচ্ছে। এমনই কৌশলে ভারতীয় বিদেশি মদের চালান পাচারের সময় ৮৮ বোতল মদসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাড়হা বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মদসহ অটোভ্যানটি জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩৬)। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, ওই এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান পাচার করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে জারিয়া-শ্যামগঞ্জ সড়কের বাড়হা বোর্ড বাজার এলাকায় মাসুম টেলিকমের সামনে অবস্থান নেয়।
এ সময় সন্দেহভাজন একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান সেখানে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে ভ্যানটিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে নিবিড় তল্লাশিতে চালকের আসনের নিচে ও পেছনের অংশে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা গোপন চেম্বারের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। চেম্বারগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে থরে থরে সাজানো বিদেশি মদের বোতল।
অভিযানে মোট ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে চালকের আসনের নিচ থেকে ৭৫০ মিলিলিটারের ৪৬ বোতল ‘আইকনিক হোয়াইট’ ব্র্যান্ডের মদ (৩৪ দশমিক ৫ লিটার), পেছনের গোপন চেম্বার থেকে ২২ বোতল ‘রয়েল স্ট্যাগ’ (১৬ দশমিক ৫ লিটার) এবং ২০ বোতল ‘ব্লেন্ডার্স প্রাইড’ (১৫ লিটার) উদ্ধার করা হয়।
মদের চালানের পাশাপাশি পাচারকাজে ব্যবহৃত অটোভ্যান ও আটক ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি টিসিএল ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় ডিএনসির পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর