নফল ইবাদত, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ ও সূরা ইখলাস কতবার পড়া হলো, তার হিসাব অন্যকে জানানো যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কোনো মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ের আমলের হিসাব জমা দেওয়ার প্রচলন থাকলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় সংশয়।
ইসলামি আলোচনাভিত্তিক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রশ্নের উত্তরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেছেন, নিয়মিত আমলের সুবিধার্থে নিজের ইবাদতের হিসাব লিখে রাখা যেতে পারে। তবে নফল ইবাদত গোপন রাখাই উত্তম।
আমলের হিসাব লিখে রাখা যাবে?
প্রশ্নকারী জানান, তাঁদের মসজিদের ইমাম এক মাসে কে কতবার ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ ও সূরা ইখলাস পাঠ করবেন, তা লিখে রাখতে বলেছেন। মাস শেষে সেই হিসাব জানালে মসজিদে দোয়া করা হবে। এ অবস্থায় নিজের আমলের পরিমাণ অন্যকে জানানো ঠিক হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, নিয়মিত আমল করার সুবিধার্থে ইবাদতের হিসাব লিখে রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। এতে আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়া সহজ হয়।
তবে নফল ইবাদত, দরুদ ও ইস্তিগফারের হিসাব অন্যের কাছে প্রকাশ না করে নিজের ও আল্লাহর মধ্যে গোপন রাখাই উত্তম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইমামকে আমলের সংখ্যা জানানো কি অনুচিত?
উত্তরে বলা হয়েছে, ইমামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আমলের হিসাব জমা দেওয়ার পদ্ধতি পরিহারযোগ্য বলে মনে করেন কিছু আলেম। তবে ইমামকে আমলের পরিমাণ জানানোর উদ্দেশ্য যদি তাঁর কাছে দোয়া চাওয়া, উৎসাহ পাওয়া কিংবা আমলের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়, তাহলে শুধু এ কারণে তা নাজায়েজ হবে না।
মুফতি জাওয়াদ তাহেরের পরামর্শ, ইমামকে আমলের সংখ্যা জানানোর প্রয়োজন নেই। চাইলে আমলের হিসাব ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করে মাস শেষে মসজিদে আয়োজিত সাধারণ দোয়ায় অংশ নেওয়া যেতে পারে।
আমল গোপন রাখার বিষয়ে হাদিসে কী বলা হয়েছে?
উত্তরে সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন বান্দাকে ভালোবাসেন, যিনি মুত্তাকি, অমুখাপেক্ষী এবং নিজের আমল গোপন রাখেন।’
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, নফল ইবাদত গোপন রাখার মাধ্যমে লোকদেখানো মনোভাব থেকে দূরে থাকা যায় এবং ইবাদতের একনিষ্ঠতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে আমলের হিসাব অন্যকে জানানোর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর