• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ রাত

ক্ষমতা ছাড়লেও রেহাই নেই নেতানিয়াহুর, বহাল থাকবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জোট গঠনের আলোচনা শেষে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হতে পারে। তবে ক্ষমতা হারালেই তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক আইনি কার্যক্রম থেমে যাবে না। বরং পদ ছাড়লে বিদেশি আদালতে গ্রেপ্তার ও বিচারের ক্ষেত্রে তাঁর আইনি সুরক্ষা আরও দুর্বল হতে পারে।

গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। অন্যদিকে, গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাটি চলছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। এই দুই আদালতের কার্যক্রমের ধরন ও উদ্দেশ্য আলাদা।

মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না, কিংবা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও বন্ধ হবে না। তবে ক্ষমতা হারালে বিদেশি দেশের জাতীয় আদালতে গ্রেপ্তার ও বিচারের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত দায়মুক্তির যুক্তি আর কার্যকর থাকবে না।

আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কি বহাল থাকবে?

হ্যাঁ। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল থাকার বিষয়টি তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভরশীল নয়। পরোয়ানাটি গাজায় সংঘটিত কথিত অপরাধে তাঁর ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আইসিসির অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড। আদালত এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ইসরায়েল অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি আদালতের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি জানিয়ে আসছে।

আইসিসির রোম সংবিধির ৫৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদালত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকে। ফলে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও পরোয়ানাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না।

তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসিতে বিচার শুরু করা সম্ভব হবে না।

২০২৫ সালের এপ্রিলে আইসিসির আপিল বিভাগ ইসরায়েলের এখতিয়ারসংক্রান্ত আপত্তি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই পর্যালোচনা চলাকালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়নি। ইসরায়েল আদালতের সদস্য নয়—এ যুক্তিতে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। আইসিসির অবস্থান হলো, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।

ক্ষমতা ছাড়লে কি দায়মুক্তি হারাবেন নেতানিয়াহু?

এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে কোন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

আইসিসির ক্ষেত্রে সরকারি পদমর্যাদা কাউকে বিচারের আওতার বাইরে রাখে না। রোম সংবিধির ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের মতো উচ্চপদে থাকা কোনো ব্যক্তির সরকারি মর্যাদা তাঁকে আদালতের এখতিয়ার থেকে অব্যাহতি দেয় না।

এ বিষয়ে আইসিসি অতীতেও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ২০১৯ সালে সুদানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে গ্রেপ্তার না করায় জর্ডানের দায়িত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টি আদালতের আপিল বিভাগে আলোচিত হয়। ২০২৪ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্রেপ্তার না করায় মঙ্গোলিয়াও আদালতের সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে বলে রায় দেওয়া হয়।

তবে বিদেশি দেশের জাতীয় আদালতে দায়মুক্তির প্রশ্নটি কিছুটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ধরনের দায়মুক্তির কথা বলা হয়।

ব্যক্তিগত দায়মুক্তি: রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো নির্দিষ্ট পদধারীরা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিদেশি দেশের জাতীয় আদালতে গ্রেপ্তার ও বিচারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি ভোগ করেন। অভিযোগের ধরন যা-ই হোক, তাঁদের সরকারি অবস্থানের কারণে এই সুরক্ষা কার্যকর থাকতে পারে। তবে এটি সাময়িক; পদ ছাড়ার পর সাধারণত এর অবসান ঘটে।

কার্যগত দায়মুক্তি: সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় করা কাজের ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তির প্রশ্ন ওঠে। কর্মকর্তা পদ ছাড়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা বহাল থাকতে পারে। তবে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে এ ধরনের দায়মুক্তির সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক রয়েছে।

অতএব, নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লে বিদেশি জাতীয় আদালতে তাঁর ব্যক্তিগত দায়মুক্তি শেষ হতে পারে। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য কার্যগত দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার ও আইনের ওপর নির্ভর করবে।

কোন দেশগুলো দায়মুক্তির যুক্তি দেখিয়েছে?

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানা জারির পর কয়েকটি দেশ তাঁকে গ্রেপ্তারের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ফ্রান্স বলেছিল, আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত দায়মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও এ যুক্তি প্রযোজ্য হতে পারে বলে দেশটি জানিয়েছিল। তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ এ ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানিও নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে দায়মুক্তির নিয়ম মেনে চলার কথা বলেন।

একই বছরের এপ্রিলে নেতানিয়াহুর হাঙ্গেরি সফরের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার না করার ঘটনায় দায়মুক্তির যুক্তি তুলে ধরে হাঙ্গেরি। দেশটি আইসিসির রোম সংবিধির ৯৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে। পরে আইসিসি জানায়, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার না করে হাঙ্গেরি আদালতের সঙ্গে সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেই যে নেতানিয়াহু গ্রেপ্তার হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে আদালত সদস্যরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের নতুন সরকার চাইলে আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে, তবে নেতানিয়াহুকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও আইনি নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।

বিদেশি আদালতে কি বিচার হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিদেশি দেশের জাতীয় আদালতে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা দূর হতে পারে। কারণ, তখন তিনি আর ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধান হিসেবে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি দাবি করতে পারবেন না।

বিভিন্ন দেশের আইনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার ক্ষেত্রে সর্বজনীন এখতিয়ারের বিধান রয়েছে। এর ফলে অপরাধটি সংশ্লিষ্ট দেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত না হলেও, এমনকি দেশটির সঙ্গে ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র না থাকলেও, নির্দিষ্ট শর্তে দেশটির আদালত বিচার করতে পারে।

তুরস্কে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজামুখী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকে দেওয়ার ঘটনায় নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনি কার্যক্রমের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা বা পরোয়ানা থাকলেই কোনো ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হন না।

সাবেক রাষ্ট্রনেতাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আদালতে আইনি পদক্ষেপের নজিরও রয়েছে। চিলির সাবেক শাসক অগাস্তো পিনোশেকে ১৯৯৮ সালে স্পেনের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে লন্ডনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরের বছর যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডস সিদ্ধান্ত দেয়, প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু নির্যাতনের অভিযোগে তিনি দায়মুক্তি দাবি করতে পারবেন না।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে জারি করা একটি পরোয়ানা বাতিল করে। তবে আদালত জানায়, তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পর নতুন করে পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত সাবেক নেতাদের দায়মুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

নেতানিয়াহুর বিদেশ সফর কোনো কোনো দেশে গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। আবার তাঁকে সরাসরি উপস্থিত না পেয়েও কিছু দেশের কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাতে বা নির্দিষ্ট আইনি শর্তে পরোয়ানা জারি করতে পারে।

তবে তাঁকে আটক করা বাস্তবে কঠিন হতে পারে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে সফর এড়িয়ে চলতে পারেন। পাশাপাশি, ইসরায়েল সরকার তাঁকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার কী হবে?

গাজায় গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করে। এই মামলাটি আইসিসির কার্যক্রম থেকে আলাদা।

আইসিসি ব্যক্তির ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করে। অন্যদিকে, আইসিজে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং গণহত্যা সনদসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো রাষ্ট্রের দায় আছে কি না, তা বিবেচনা করে।

ফলে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না। মামলাটি চলবে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের দায়কে কেন্দ্র করে।

তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত ও সরকারি কর্মকাণ্ড মামলায় প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে গণহত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজের পাশাপাশি গণহত্যার অভিপ্রায় ছিল কি না, তা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ২০২৬ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগের জবাবে পাল্টা যুক্তি জমা দিয়েছে। এতে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০২৭ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত জবাব দেওয়ার এবং ইসরায়েলকে ২০২৯ সালের ২২ মে পর্যন্ত পরবর্তী জবাব দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

দুর্নীতির মামলায় কী হবে?

আন্তর্জাতিক আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি ইসরায়েলেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও এসব মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে না।

২০২০ সাল থেকে তিনটি মামলায় ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিচার চলছে। নেতানিয়াহু তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমার আবেদন করেন। এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে দুই পক্ষের আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহু দোষ স্বীকার না করলে এবং রাজনীতি থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁকে ক্ষমা করা সম্ভব নয়। তবে ক্ষমার আবেদন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সমঝোতার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে ইসরায়েলের প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

তাহলে ক্ষমতা ছাড়লেই কি গ্রেপ্তার হবেন নেতানিয়াহু?

সংক্ষিপ্ত উত্তর—না, ক্ষমতা ছাড়লেই তাঁর গ্রেপ্তার নিশ্চিত নয়। তবে এর ফলে তাঁর আইনি অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল থাকতে পারে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজের গণহত্যার মামলাও চলবে। একই সঙ্গে বিদেশি জাতীয় আদালতে ব্যক্তিগত দায়মুক্তির সুরক্ষা হারালে নেতানিয়াহু নতুন আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা, আদালতের সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তাই ক্ষমতা হারানো তাঁর জন্য আইনি ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com