• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৫ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১২ বিকাল

সন্তানের রেজাল্ট খারাপ? ভুলেও যে কথাগুলো বলবেন না

ছবি: প্রতিকী ছবি

পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দের, আবার কারও কারও জন্য হতাশারও। প্রত্যাশিত ফল পেয়ে কেউ যখন উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন, তখন আশানুরূপ ফল না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীই মন খারাপ করে বসে থাকেন। কেউ নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শুরু করেন, আবার কেউ পরিবার কিংবা সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন।

কিন্তু মনে রাখা জরুরি, একটি পরীক্ষার ফল কখনোই একজন মানুষের মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যতের চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না। জীবনে সফল হওয়ার পথ অনেক। তাই ফল খারাপ হলে সমালোচনা বা বকাঝকা নয়, শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন।

বিশেষ করে মা-বাবা, শিক্ষক ও কাছের মানুষদের কিছু কথা এবং আচরণ হতাশ শিক্ষার্থীকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাতে পারে।

ফল খারাপ মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়

একসময় পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের কটূক্তি শুনতে হতো। কেউ রিকশা চালানোর ভয় দেখাতেন, কেউ আবার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কিংবা বিয়ে দেওয়ার কথা বলতেন। অনেক সময় এসব মন্তব্য হাসি-তামাশার ছলে করা হলেও শিক্ষার্থীর মনে তা গভীর আঘাত করতে পারে।

সময় বদলেছে। এখন উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা হওয়াসহ নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াকে জীবনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

আগে মন দিয়ে শুনুন, তারপর পরামর্শ দিন

ফল খারাপ হওয়ার পরপরই ‘কেন এমন হলো’, ‘এত পড়েও ভালো করতে পারলে না কেন’ কিংবা ‘এখন কী করবে’—এ ধরনের প্রশ্ন শিক্ষার্থীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

বরং তাকে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দিন। মন দিয়ে তার কথা শুনুন। প্রয়োজনে পাশে বসে বলুন, ‘মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে একটা ফলই সবকিছু নয়। আমরা একসঙ্গে পরবর্তী পথ খুঁজে নেব।’

এমন আশ্বাস শিক্ষার্থীকে বুঝতে সাহায্য করে, কঠিন সময়েও সে একা নয়।

অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না

‘তোমার বন্ধু এত ভালো করল, তুমি পারলে না কেন?’—এ ধরনের কথা অনেক পরিবারেই শোনা যায়। কিন্তু অন্যের সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করে কাউকে উৎসাহিত করার চেষ্টা উল্টো তার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার ধরন, পারিবারিক পরিস্থিতি, আগ্রহ ও সক্ষমতা আলাদা। তাই অন্যের ফলের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজের চেষ্টা, দুর্বলতা ও সম্ভাবনার দিকে নজর দিন।

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের ভালোবাসা যেন শর্তসাপেক্ষ না হয়

ফল খারাপ হওয়ার পর শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে তার পরিবার। অথচ অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের রাগ, হতাশা কিংবা অপমানজনক মন্তব্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।

সন্তানকে বোঝাতে হবে, ভালো ফল করলেই শুধু সে পরিবারের প্রিয় নয়। ফল যেমনই হোক, তার প্রতি পরিবারের ভালোবাসা ও সমর্থন একই থাকবে।

বিশেষ করে ফল প্রকাশের দিন আত্মীয়স্বজনের সামনে বকাঝকা করা, অপমান করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

ব্যর্থতার ভয় নয়, নতুন করে শুরুর সাহস দিন

একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনের সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। অনেক সময় একটি ব্যর্থতাই নিজের দুর্বলতা চেনার এবং নতুনভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

শিক্ষার্থীকে বোঝান, ভুল থেকে শেখা সম্ভব। কোথায় ঘাটতি ছিল, কীভাবে পড়াশোনার পদ্ধতি বদলানো যায় কিংবা কোন বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ প্রয়োজন—এসব নিয়ে ধীরে ধীরে আলোচনা করুন।

তবে মনে রাখবেন, উৎসাহ দেওয়ার নামে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি নয়; বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও সহযোগিতাই বেশি কার্যকর।

ফল প্রকাশের দিনই ভবিষ্যতের চাপ নয়

পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, পছন্দের বিষয় কিংবা ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

হতাশ শিক্ষার্থীকে কিছুটা সময় দিন। মন শান্ত হলে তার আগ্রহ, ফলাফল ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী করণীয় ঠিক করুন।

প্রয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষাপরামর্শক কিংবা অভিজ্ঞ কারও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পরবর্তী পরীক্ষার সুযোগ থাকলে সেসব বিষয়েও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।

মন খারাপকে অবহেলা করবেন না

ফল খারাপ হওয়ার পর কেউ কেউ চুপচাপ হয়ে যেতে পারেন, বন্ধুদের এড়িয়ে চলতে পারেন কিংবা স্বাভাবিক কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ‘এতটুকু বিষয় নিয়ে মন খারাপের কী আছে’ বলে তার অনুভূতিকে ছোট করবেন না।

বরং নিয়মিত খোঁজ নিন। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে নজর রাখুন।

হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা শিক্ষার্থীর আচরণে উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দিলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো। আর নিজের ক্ষতি করার কথা বললে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে একা না রেখে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নিতে হবে।

মনে করিয়ে দিন, সামনে আরও সুযোগ আছে

জীবনের সফলতা শুধু পরীক্ষার নম্বর কিংবা জিপিএর ওপর নির্ভর করে না। জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ হয়তো উচ্চশিক্ষায় নিজের পছন্দের বিষয়টি পাবেন না, কারও আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু তাতে জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না।

সবচেয়ে জরুরি হলো, শিক্ষার্থী যেন নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে না ফেলেন।

মনে রাখবেন, ভালো ফলের দিনে অভিনন্দন জানানো সহজ। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার দিনে পাশে দাঁড়ানো, সাহস দেওয়া এবং নতুন করে পথচলার শক্তি জোগানোই প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থনের পরিচয়।

একটি পরীক্ষার ফল হয়তো সাময়িক হতাশার কারণ হতে পারে, কিন্তু সেটিই যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন দেখার সাহস কেড়ে না নেয়।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]