বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আসাদুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াদ হোসেন (২১) ও রেহনা বেগম (৬০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রিয়াদ গাবতলী উপজেলার সানচক মরিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং রেহনা বেগম শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা এলাকার মৃত ফরিদ প্রামাণিকের স্ত্রী। রেহনা বেগম সম্পর্কে রিয়াদের নানি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন রিয়াদ। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চালক আসাদুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আসাদুল তাকে মাদক কিনে দেওয়ার অনুরোধ করলে রিয়াদ ব্যর্থ হন। পরে আসাদুল নিজে ইয়াবা কিনে রিয়াদকে নির্জন স্থানে সেবনের প্রস্তাব দেন। রিয়াদ তাকে শেরপুর ঘাটপার হয়ে রণবীরবালা এলাকায় তার নানির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ইয়াবা সেবন নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আসাদুল কলম দিয়ে রিয়াদকে আঘাত করলে রিয়াদ ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা চাকু দিয়ে আসাদুলের গলায় আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে পুনরায় ছুরিকাঘাত করা হয়।
ঘটনার পর রাত ১টার দিকে রিয়াদ তার নানি রেহনা বেগমের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুসহ অন্যান্য আলামত পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদীতে ফেলে দেন। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী অটোরিকশাটি ছিনতাই করে এর ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দেন তারা।
গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে রণবীরবালা এলাকার করতোয়া নদী থেকে আসাদুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। রোববার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, ভোররাতে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দুপুরে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর