চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়া, একের পর এক পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েও সফল না হওয়া—এসব কারণে অনেকের মধ্যেই হতাশা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব ও জীবিকার তাগিদে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা অনেকের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসলামে জীবিকা ও রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তবে রিজিকের জন্য চেষ্টা করাও মানুষের দায়িত্ব। তাই হালাল উপার্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও কল্যাণ কামনা করা একজন মুমিনের কর্তব্য।
পবিত্র কোরআনে এমন একটি দোয়ার উল্লেখ রয়েছে, যা হজরত মুসা (আ.) চরম অসহায় অবস্থায় আল্লাহর কাছে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তাঁর জন্য আশ্রয়, কাজ ও জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। চাকরি বা কর্মসংস্থানের সন্ধানে থাকা মানুষের জন্যও এ দোয়াটি হতে পারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি মাধ্যম।
মাদইয়ানে গিয়ে যে দোয়া করেছিলেন মুসা (আ.)
ফেরাউনের অত্যাচার ও রোষানল থেকে বাঁচতে মিসর ছেড়ে মাদইয়ানের পথে রওনা হন হজরত মুসা (আ.)। সেখানে পৌঁছে তিনি একটি কূপের কাছে যান। দেখতে পান, অনেক মানুষ তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছেন। কিন্তু দুই নারী নিজেদের পশু নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
মুসা (আ.) তাঁদের অপেক্ষার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা জানান, রাখালেরা সরে না যাওয়া পর্যন্ত তাঁরা পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারেন না। তাঁদের বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় পশু চরানো ও পানি পান করানোর দায়িত্ব তাঁদেরই পালন করতে হয়।
তাঁদের অসহায়ত্ব দেখে মুসা (আ.) এগিয়ে এসে পশুগুলোকে পানি পান করাতে সাহায্য করেন। এরপর তিনি একটি ছায়ার নিচে আশ্রয় নিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। পবিত্র কোরআনে তাঁর সেই দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে সুরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াতে।

দোয়া ও অর্থ
রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাজিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
দোয়ার পর কীভাবে খুলে যায় জীবিকার পথ
মুসা (আ.)-এর এই দোয়ার পরের ঘটনাও তাৎপর্যপূর্ণ। যেসব নারীকে তিনি কূপের কাছে সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদের একজন তাঁর বাবার কাছে মুসা (আ.)-কে কাজের লোক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
পবিত্র কোরআনে সুরা কাসাসের ২৫ ও ২৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ওই দুই নারীর একজন মুসা (আ.)-কে তাঁদের বাবার কাছে নিয়ে যান। তাঁদের বাবা মুসার ঘটনা শোনার পর তাঁকে আশ্বস্ত করেন। এরপর এক নারী বাবাকে বলেন, তাঁকে কাজে নিয়োগ দিতে। কারণ, তিনি শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।
পরবর্তী সময়ে ওই বৃদ্ধ মুসা (আ.)-কে কাজের সুযোগ দেন এবং তাঁর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়। এভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা, মানুষের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব এবং দোয়ার মাধ্যমে মুসা (আ.)-এর জীবনে নতুন পথ তৈরি হয়।
চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য শিক্ষা
মুসা (আ.)-এর এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বিপদ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়। একই সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করা এবং সততা ও যোগ্যতার পরিচয় দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই চাকরি বা জীবিকার সন্ধানে থাকা ব্যক্তিরা হালাল উপার্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই দোয়াটি পড়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইতে পারেন। তবে কোরআনে এই দোয়াকে নির্দিষ্ট কোনো চাকরি পাওয়ার নিশ্চিত আমল বা নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠের নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং এটি আল্লাহর কাছে সব ধরনের কল্যাণ ও প্রয়োজন পূরণের আকুল প্রার্থনা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর