এক খতম কোরআন তিলাওয়াত করে পাঁচজন মৃত ব্যক্তির জন্য ঈসালে সওয়াব করলেন কেউ। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকে কি পূর্ণ এক খতমের সওয়াব পাবেন, নাকি পাঁচজনের মধ্যে সওয়াব ভাগ হয়ে যাবে? বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ মৃত স্বজনদের জন্য ঈসালে সওয়াব করতে গিয়ে অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন জাগে।
ইসলামি শরিয়তে নফল ইবাদতের সওয়াব অন্যের জন্য উৎসর্গ করা বা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলেমদের আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর পরিমাণ নিয়ে ফকিহদের মধ্যে দুটি মত পাওয়া যায়।
ইসলামি ফিকহের আলোচনায় আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও হাম্মাদ মাক্কী (রহ.)-সহ কিছু আলেমের মত হলো, একাধিক ব্যক্তির জন্য সওয়াব ঈসাল করা হলে তা তাঁদের মধ্যে বণ্টিত হতে পারে।
অন্যদিকে ইবনে হাজার মাক্কী (রহ.) ও আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.)-সহ বহু আলেমের মতে, একাধিক ব্যক্তির জন্য সওয়াব ঈসাল করলে প্রত্যেকেই পূর্ণ সওয়াব পেতে পারেন। অর্থাৎ, একজনের জন্য সওয়াব উৎসর্গ করার কারণে অন্যজনের প্রাপ্য সওয়াব কমে যায়—এমনটি আবশ্যক নয়।
এই দ্বিতীয় মতের পক্ষে যুক্তি হিসেবে আল্লাহর অসীম রহমত ও অনুগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আল্লাহ চাইলে একই আমলের সওয়াব একাধিক ব্যক্তিকে দান করতে পারেন।
তবে বিষয়টি ফিকহি মতপার্থক্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই একে এমন কোনো সর্বসম্মত বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না, যেখানে আলেমদের অন্য মতের কোনো অবকাশ নেই।
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ইসলামে স্বীকৃত আমল। কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন নফল ইবাদতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো নিয়েও আলেমদের আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে মাজহাবভেদে কিছু ব্যাখ্যাগত পার্থক্য আছে।
সওয়াব ঈসালের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পাওয়া যায় কোরবানির হাদিসে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির পশু জবাই করার সময় আল্লাহর কাছে তা কবুল করার দোয়া করেছিলেন—নিজের, পরিবারের এবং উম্মতের পক্ষ থেকে।
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোরবানির সঙ্গে পরিবার ও উম্মতের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কোরবানির বিধান এবং কোরআন তিলাওয়াতের সওয়াব ঈসালের বিধান এক নয়; তাই হাদিসটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনায় উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করাই যথাযথ।
মৃত বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের জন্য দোয়া করা যেতে পারে। কেউ কোরআন তিলাওয়াত বা অন্য কোনো নফল আমলের সওয়াব তাঁদের জন্য উৎসর্গ করতে চাইলে এ বিষয়ে নিজের অনুসৃত মাজহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিতে পারেন।
অনেক আলেম সব মুমিন নর-নারীর জন্য সওয়াব ঈসালের নিয়ত করাকে উত্তম বলেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এতে আমলকারীর নিজের সওয়াব কমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং আল্লাহর অনুগ্রহে অন্যরাও সওয়াব পেতে পারেন।
সুতরাং, এক খতম কোরআন তিলাওয়াত করে পাঁচজন মৃত ব্যক্তির জন্য ঈসালে সওয়াব করলে প্রত্যেকেই পূর্ণ সওয়াব পেতে পারেন—এটি বহু আলেমের সমর্থিত মত। তবে এ বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্য থাকায় নিশ্চিতভাবে সওয়াবের পরিমাণ নির্ধারণ না করে আল্লাহর রহমতের ওপর আশা রাখাই সংগত।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর