পাবনার চাটমোহরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে পুকুরে গিয়ে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখেন ভুক্তভোগী পুকুর মালিক সুরুজ আলী। এর আগে শনিবার দুপুরে ওই পুকুরে বিষ দেওয়া হয়।
অভিযোগের তীর সুরুজ আলীর চাচাতো ভাই শাজাহান আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মাছ নিধনের ফলে সুরুজ আলীর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের সুরুজ আলী তার বাবা-দাদার আমল থেকে বহু বছর ধরে বাড়ির পাশে বিলের মধ্যে নিজেদের পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। শনিবার তার চাচাতো ভাই শাজাহান আলী কিছু লোক পাঠিয়ে ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। খবর পেয়ে সেখানে যান সুরুজ আলীর ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন। কিন্তু পুকুরে বিষ দিতে আসা লোকজন তাকে মারধরের চেষ্টা করে। নিজেকে বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন জাহাঙ্গীর। পরে অভিযুক্তরা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়েও হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
সুরুজ আলীর বড় ছেলে বকুল হোসেন বলেন, "গতকাল শনিবার দুপুরে তারা পুকুরে এসে বিষ দিতে থাকে। সেটা দেখে আমার ছোট ভাই এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করার চেষ্টা করে। পরে তারা আমাদের বাড়িতে গিয়ে মারার জন্য আক্রমণ করে। তাদের দাবি, পুকুর তাদের। মাছ তারা ধরবে। অথচ এত বছর ধরে আমরা ভোগ দখল করছি, কোনোদিন তারা বলেনি।"
সুরুজ আলীর ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "আমরা এই পুকুর কেটে নতুন বাড়ি করেছি কয়েক বছর আগে। তারপর থেকে পুকুরে মাছ চাষ করি। কিন্তু গতকাল শনিবার দুপুরে হঠাৎ করে ৭-৮ জন লোক এসে পুকুরে কী যেন ছিটাচ্ছিল। আমি দেখে দৌঁড়ে পুকুরের কাছে আসতে গেলে তারা আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে। আমি একা থাকায় পালিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে। বিষ দেওয়ার ফলে পুকুরের সব মাছ মরে গেছে।" এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় পুকুরে বিষ দিতে এসেছিল আলিফ, শাহীন, আজিজ, কোকিল, মহররম। তারা একই গ্রামের শাজাহান আলীর ইন্ধনে এই কাজ করছে। শাজাহান নাকি বলছেন, এই পুকুরের জমি তার বাবার নামে রেকর্ড করা ছিল। সেই অনুযায়ী নাকি তিনি উল্লেখিত লোকজনের কাছে লিজ দিয়েছেন। ইতিপূর্বে কোনোদিন কখনও শাজাহান আলী জমি দাবি করেননি। "তার বোনের কাছ থেকে আমার দাদা জমি কিনেছেন সত্তরের দশকের দিকে। তার দলিল আছে আমাদের। এখন এত বছর পর এসে হঠাৎ করে শাজাহান জমি দাবি করছেন, যার কোনো ভিত্তি নাই।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাজাহান আলীর সঙ্গে কথা বলার জন্য রবিবার বিকেলে কয়েক দফা চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে আরেক অভিযুক্ত আলিফ বলেন, "এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ কাজ ওরা নিজেরাই করে আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আর এটা কোনো নিউজ হবে না। আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা বলবো।"
পরে আবার তিনি বলেন, "বিলের মাঝখানে ওই পুকুর। আমরা বিলে পানি থাকাকালে কিছু মাছ ছেড়েছিলাম। স্থানীয় মসজিদে কিছু টাকা দিবো এই বলে। পরে যখন পানি শুকিয়ে যায় তখন মাছগুলো সব ওই পুকুরে চলে যায়। তাদের (জাহাঙ্গীর) বলছিলাম মাছগুলো দাও, বিক্রি করে দেই। আমাদের তো অনেক লস। তারা দেবেই না। আবার ওই পুকুরের মালিকও কিন্তু তারা না। মালিক আরেকজন আছে। নাম শাজাহান। তার কাছ থেকে আমরা ওই পুকুর লিজ নেই। মাছ কেমন আছে দেখার জন্য শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এক কেজির মতো মাছের খাদ্য নিয়ে গিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দেই।"
চাটমোহর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর