নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সীমানা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা, বিশেষ করে সুপেয় পানি সরবরাহকারী নোয়াখালী মৌজা পাম্পের পাইপ লাইন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপত্তির মুখে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও উদ্বেগ কাটছে না সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম সীমানা থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত প্রায় ২ একর জমিতে একটি আবাসিক প্রকল্পের মাটি ভরাটের জন্য ব্যবসায়িকভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। সেখানে মাটি কাটার একটি এক্সকাভেটর (Excavator), দুটি বড় পাম্প মেশিন এবং বিভিন্ন পাইপ ও যন্ত্রপাতি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, প্রথমদিকে বালু উত্তোলন চললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তির পর তা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওই স্থান থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিভিন্ন একাডেমিক ভবনসহ স্থাপনার ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাছাড়া নোয়াখালী মৌজা পাম্পের পাইপ লাইন ওই এলাকাজুড়ে বিস্তৃত থাকায় বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নোবিপ্রবি অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “ক্যাম্পাস এরিয়া সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিবর্গ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়না দ্বীপ সংলগ্ন এলাকা পরিযায়ী পাখিদের জন্য সংরক্ষিত আবাসস্থল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে অতিথি পাখিদের আগমনের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করি।”
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক/রেললাইন, সরকারি/বেসরকারি স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। ২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী গ্যাস বা বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও সেখানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এছাড়াও আমরা নোয়াখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে চিঠি দিয়েছি যাতে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়।”
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর