“I have a plan for the people of my country and for my country.” আগামীর পথযাত্রা যেখান থেকে শুরু, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে ফেরা - নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন - বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি মৌলিক পূর্বশর্ত। এই প্রেক্ষাপটে জনাব তারেক রহমানের ঘোষিত দৃষ্টিভঙ্গি “I have a plan for my country” বক্তব্যটি রাজনৈতিক স্লোগানের বাইরে গিয়ে একটি নীতিগত ও কাঠামোগত রূপকল্প হিসেবে আলোচনায় আসে। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনা।
জনাব তারেক রহমানের “I have a plan for my country” মূলত এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামোর কথা বলে, যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে জনগণের ভোট, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে জবাবদিহি এবং অর্থনীতি হবে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ ও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হলে প্রথমত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাই হবে বিনিয়োগ আস্থা পুনরুদ্ধারের ভিত্তি - দেশি উদ্যোক্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত হবে। এই পরিকল্পনার অর্থনৈতিক দিকটি বিশেষভাবে কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক। শিল্প, কৃষি, এসএমই এবং সেবাখাতে নীতিগত সহায়তা বাড়িয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা এতে অন্তর্ভুক্ত। তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা সহায়তা জোরদার হলে বেকারত্ব কমবে এবং অভিবাসন নির্ভর আয়ের ওপর চাপও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হলে শহরমুখী চাপ কমবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে।
“I have a plan for my country” পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, নীতির স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ হবে - যা সরাসরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই পরিকল্পনার ফল সুদূরপ্রসারী। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে, উন্নয়ন সহযোগিতা সহজ হবে এবং বাণিজ্য ও রপ্তানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও সুশাসনের ইতিবাচক বার্তা বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য অংশীদারে পরিণত করবে।
সব মিলিয়ে, জনাব তারেক রহমানের “I have a plan for my country” বক্তব্যটি যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন ও গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের বাস্তব কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সকল দলমত, ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। বাংলাদেশের বর্তমান সংকটময় প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনার মূল সাফল্য নিহিত রয়েছে - গণতন্ত্রকে ভিত্তি করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন আনা।
লেখক: অঞ্জন মজুমদার
কৃষিবিদ-কবি ও লেখক
(খোলা কলাম বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বিডি২৪লাইভ ডট কম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
খোলা কলাম এর সর্বশেষ খবর