দেশবাসির কাঙ্খিত নির্বাচনের ট্রেন, যাত্রা শুরু করেছে। নির্বাচনের গরম হাওয়া বইছে দেশজুড়ে। আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের ভোটের মাঠ। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি চলছে জোরে সোরে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়ন এবং রানীশংকৈল উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় আসনটি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয়পার্টির দখলে ছিল।
এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় ভোটারদের সমীকরণে মূল লড়াইয়ের আভাস মিলছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। ব্যানার আর মাইকিংয়ে এখন সরগরম পুরো এলাকা।
লড়াইয়ে আছেন যারা এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি জাহিদুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন মিজানুর রহমান মাস্টার। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলা আমিন (হাতপাখা), গণ অধিকার পরিষদের মামুনুর রশিদ মামুন (ট্রাক), কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম (কাস্তে), মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমান সরকার (হারিকেন), মাইনরিটি জনতা পার্টির কমলাকান্ত রায় (রকেট), সুপ্রিম পার্টির আবুল কালাম আজাদ (একতারা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি (ফুটবল)।
মাঠের চিত্র ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লড়াই মূলত দ্বিমুখী হতে যাচ্ছে। ভোটারদের বড় একটি অংশের ধারণা, আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি অথবা জামায়াতে ইসলামী—এই দুই দলের কোনো একটি আসীন হবে। তাই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এই দুই দলের কোনো একজনকে বেছে নিতে চান তারা। একজন ভোটার বলেন, ‘বিগত কয়েকটি নির্বাচনে যিনি এমপি ছিলেন, তিনি শুধু রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কথাই শোনান। এর বাইরে জীবনমান উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনার গল্প তিনি শোনাতে পারেন না। তাই এবার আমরা এমন কাউকে ভোট দেব, যিনি পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিত ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
ভোটারদের অনেকে মনে করছেন, সরকারের অংশ হতে পারেন এমন কাউকে নির্বাচিত না করলে এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত হতে পারে এবং স্থানীয় শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থাকে।
আরেক ভোটার বলেন,“এই আসনের হাজার হাজার মানুষ পেটের দায়ে ঢাকায় গিয়ে নামমাত্র বেতনে গার্মেন্টসে কাজ করেন। ঢাকার খরচ মিটিয়ে তাঁদের হাতে কিছুই থাকে না, ফলে জীবনমানেরও কোনো উন্নতি হয় না। আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এই এলাকায় শিল্পকারখানা গড়তে উৎসাহিত করবেন। নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হলে আমাদের মানুষের ভাগ্য ফিরবে।”
এক তরুণ ভোটার বলেন, “শিক্ষা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের কিছু দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে। বিশেষ করে পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দুটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। যে প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে এই বিদ্যালয় দুটি সরকারিকরণে কার্যকর ও জোরালো উদ্যোগ নেবেন, আমার ভোটটি তাঁর বাক্সেই যাবে।”
নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের সেই কঠিন সময়েও নানা বাধা পেরিয়ে আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। মাত্র তিন বছর সময় পেয়েছিলাম, যা কাজ করার ওই স্বল্প সময়েই করেছি। এবার নির্বাচিত হলে বেকারত্ব দূরীকরণসহ মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কাজ করব।’
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিজানুর রহমান মাস্টার বলেন, ‘আমি রানীশংকৈল উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামীর প্রতি মানুষের আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, দুই উপজেলার মানুষ আমাকেই নির্বাচিত করবেন।’
জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করে এবারও আমাকে নির্বাচিত করবেন।’
তরুণ ভোটারদের টানতে চান গণ অধিকার পরিষদের মামুনুর রশিদ মামুন। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আমার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাদের ভোটেই আমি জয়ী হবো।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি নারী ও তরুণ ভোটারদের সমর্থনের ওপর ভরসা করছেন। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনেও ভালো ভোট পেয়েছিলাম। এবারও তরুণ ও নারীদের সমর্থন পাব বলে আশা করছি।’
এছাড়া ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী আলা আমিন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাত সমীর এবং মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমানও নিজ নিজ দলীয় আদর্শ প্রচার করে ভোট প্রার্থনা করছেন। মাইনরিটি জনতা পার্টির কমলাকান্ত রায় দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও ৩ আসনে ১২৮টি ভোট কেন্দ্র। মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৬৬ জন এবং মহিলা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৮ জন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর