বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৭ আসনের এক প্রার্থীর সঙ্গে ঢাকা সেনানিবাসের একটি প্রবেশপথে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশের (এমপি) কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সেনানিবাসে প্রবেশের বিধি–বিধান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে—বেসামরিক কোনো ব্যক্তি নিজে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন করে কিংবা সরকার বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সশস্ত্র দেহরক্ষী বা গানম্যান নিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশ করতে পারেন কি না।
একই সঙ্গে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, পুলিশ বা অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনকালে নিজেদের অস্ত্রসহ সেনানিবাস এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন কি না, কিংবা সেনানিবাসে প্রবেশের সময় তাদের অস্ত্র ও গানম্যান ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে যাদের সঙ্গে ওই প্রার্থীকে তর্কে জড়াতে দেখা গেছে, সেই মিলিটারি পুলিশ সদস্যরা কোন প্রক্রিয়ায় সেনানিবাসে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করেন—এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সেনা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনানিবাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশ সদস্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এমনকি কোনো সেনা কর্মকর্তা যদি এমপির সিদ্ধান্ত অমান্য করেন, সেক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তাদের মতে, সেনানিবাসের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্যান্টনমেন্ট আইন, ২০১৮ এবং মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেটের নির্দেশনার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এসব বিধান অনুযায়ী সেনানিবাস একটি ‘সংরক্ষিত এলাকা’, যেখানে বেসামরিক কোনো ব্যক্তি অস্ত্র বা সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে বেসামরিক মানুষের চলাচল রয়েছে এবং অনেক বেসামরিক মানুষ সেখানে বসবাসও করেন। তবে সেনানিবাস এলাকায় যে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত বিষয়ে সেনা আইনই চূড়ান্ত। ভূমি বা অন্যান্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ চাইলে সুপ্রিম কোর্টে রিট করতে পারেন।
“এছাড়া সেনাবাহিনী চাইলে কোনো অপরাধের ঘটনায় সামরিক আইনে বিচার করতে পারে, আবার প্রয়োজনে ফৌজদারি আইনের আওতায়ও অভিযুক্তকে সোপর্দ করতে পারে,” বলেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর