পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে কিছুটা ‘থমকে’ আছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার আসার পর এই অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ক আরও এগোতে পারবে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না—এই দায় স্বীকার করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজি নই। এটি দেশের সিস্টেমের দায়, এককভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীতে অনেক সুযোগ আছে, কিন্তু আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। ভিসা না দেওয়া হলে এর দায় পুরোপুরি আমাদের। প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, জালিয়াতিতে আমরা অনেক দক্ষ। যখন কেউ জালিয়াতি করে, তখন তার কাগজ কেন বিশ্বাসযোগ্য হবে?”
তিনি সতর্ক করে জানান, “ভিসা বা ভর্তি সবই কাগজের ভিত্তিতে হয়। কাগজ দেখে সত্যতা যাচাই করানো আমাদের দায়িত্ব। ধরুন, কোনো নারী মেইডের চাকরির জন্য গেছে, কিন্তু তার ভিসায় লেখা ফ্রন্ট অফিসার বা ম্যানেজারের পদ—এই ধরনের ধাপ্পাবাজি আমরা করেছি। যতক্ষণ ঘর ঠিকমতো গোছাব না, সমস্যার সমাধান হবে না। এমন পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে।”
তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা তাদের সঙ্গে গুড ওয়ার্কিং রিলেশন চাইেছিলাম, কিন্তু সম্পূর্ণ সফল হতে পারিনি। সম্পর্কটি এখন থমকে আছে। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। ভারত তাদের স্বার্থ দেখেছে, আমরা আমাদের স্বার্থ; দু’পক্ষের স্বার্থের পার্থক্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এগোতে পারিনি।”
তিনি স্বীকার করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক “মসৃণ ছিল না”, তবে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে পরবর্তী সরকার এটি আরও মসৃণ করতে সক্ষম হবে।
একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “বিদায়ের সময় অন্তর্বর্তী সরকার যেসব চুক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সই করছে, এগুলো কি পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা হবে—এটি আমি উল্টোভাবে দেখি। আমি মনে করি আমরা অনেক ইস্যু আগেভাগেই এগিয়ে দিচ্ছি, যাতে পরবর্তী সরকারের কাজ করা সহজ হয়।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর