২০২৬ সালের শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ায় সেই শূন্যস্থান পূরণ এবং প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে চীন গত কয়েক মাসে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শীতল হওয়ায় এবং দিল্লির প্রভাব হ্রাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেইজিং এখন ঢাকার জন্য প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের চাহিদা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের চীনের বিনিয়োগের দিকে আরও ঝুঁকতে বাধ্য করছে।
চীন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের সফর ও বাণিজ্যিক আলোচনার গতি ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে কানেক্টিভিটি ও সীমান্ত সংক্রান্ত কিছু অমীমাংসিত বিষয় বাংলাদেশে অস্বস্তি তৈরি করায় বেইজিংয়ের প্রস্তাবগুলো নীতিনির্ধারকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির মূল স্তম্ভ ছিল। তবে বর্তমানে দিল্লির প্রভাব হ্রাস এবং চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা ভারতের কৌশলগত আধিপত্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ফলে, ঢাকার পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি এবং চীনের সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর