• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৫ সেকেন্ড পূর্বে
জিসান নজরুল
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:২১ বিকাল

ইবি কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন নিয়ে বিভক্ত  বিএনপিপন্থিরা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মকর্তা সমিতির ২০২৬-২৭ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ও তফসিলকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। একপক্ষ বলছেন নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবেন না। অপরপক্ষ বলছেন নির্বাচন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর কর্মকর্তা সমিতির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আওয়ামীপন্থি হওয়ায় তাঁরা সমিতির দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন। এরপর দায়িত্ব পালনের জন্য তিনটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা গঠন করা হয়। এই উপদেষ্টা পরিষদের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই নির্বাচন আয়োজনের জন্য তোড়জোড় শুরু করে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট। তবে সে সময় জাতীয় নির্বাচনের আগে সমিতির নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করে বিএনপিপন্থি জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম এবং জামায়াতপন্থি গ্রীন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিট।

জাতীয় নির্বাচনের পর কর্মকর্তা সমিতির পক্ষ থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট ও জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম। একইসঙ্গে এ কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম ও গ্রীন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিট। অন্যদিকে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের নেতারা বলেছেন, কেউ চাইলেই এ নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরাম ও গ্রীন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিটের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ফোরাম একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে তারা সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিশন পাঁচ সদস্য হওয়ার কথা। এমনকি কমিশনের বিষয়ে অন্য সংগঠনগুলোকে অবগতও করা হয়নি।

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের তফসিলও নিজেদের মতো করে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে সভা করে সেটিকে তলবি সভা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। ওই সভার প্রেক্ষিতে তারা স্বাক্ষর জালিয়াতিও করেছে। অথচ সেসব স্বাক্ষর ভিন্ন কারণে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে গ্রীন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি ওমর আলী বলেন, “আমরাও নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কিন্তু যেভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, তাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। জিয়া পরিষদ নিজেদের মতো করে সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশন গঠনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। তাই আমরা এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না।

তিনি আরও বলেন, “কমিটিতে আমাদের ফোরামের একজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই জানতেন না যে তিনি ওই কমিটিতে রয়েছেন। পরে তিনি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।"

জাতীয়বাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, “গঠনতন্ত্রের নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়নি। তারা নিজেদের মতো করে সভা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। সেখানে আমাদের একজন কর্মকর্তার নাম সংযুক্ত করা হলেও তিনি পদত্যাগ করেছেন। এমনকি নির্বাচনের তফসিলও নিজেদের ইচ্ছামতো ঘোষণা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এর আগে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা তিনটি সংগঠন একসঙ্গে উপাচার্য স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল উপাচার্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেবেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা একতরফাভাবে কমিশন গঠন করেছে। তারা নিজেদের মধ্যে সভা করে সেটিকে তলবি সভা হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। ওই সভার প্রেক্ষিতে স্বাক্ষর জালিয়াতিও করেছে।"

অভিযোগের বিষয়ে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, “ শুরুতে আমরা একটি সাধারণ সভা করেছি। ওই সভায় সাত সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং দুই শতাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। যদিও গঠনতন্ত্রে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের কথা থাকলেও সাধারণ সভার মাধ্যমে এর ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যে স্বাক্ষরগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কোনো জাল স্বাক্ষর নয়। স্বাক্ষর সংগ্রহের পর আমরা উপাচার্য স্যারকে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু উপাচার্য স্যার সেটা আর করতে পারেনি। পরবর্তীতে ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই একটি তলবি সভা আহ্বান করা হয়। তলবি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, নির্বাচন কমিশনে ওই দুই সংগঠন থেকে দুজন এবং জিয়া পরিষদ থেকে তিনজন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠন করা হোক। কিন্তু তারা সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফলে উপাচার্য স্যারের মাধ্যমে কমিশন গঠন করা হয়নি। পরে সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিশন গঠন করা হয়। ওই সভায় তাদের সংগঠনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।”

কমিশন গঠনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

উল্লেখ্য, এরআগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই অভ্যূত্থানবিরোধী ভূমিকায় থাকা কর্মকর্তাদের বাঁচাতে একজোট হয়েছিলেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের একাংশ। তারা সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com