যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপিত বহু শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করলেও তার বাণিজ্য নীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় ট্রাম্পকে পুরোপুরি থামাতে পারবে না; বরং শুল্ক আরোপের কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে।
শুক্রবার ৬-৩ ভোটে দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং অন্য আইনি ধারায় শুল্ক নীতি চালু রাখার অঙ্গীকার করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে হলে তাকে জটিল আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সাপেক্ষ তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে হঠাৎ করে ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আগের মতো থাকবে না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগেও এই রায় ট্রাম্পের দরকষাকষির অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
সাবেক মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইক ফ্রোম্যান বলেন, ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকলেও এর পর কী হবে তা স্পষ্ট নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে ব্যাপক শুল্ক আরোপ রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে ভোক্তারা মনে করছেন শুল্ক মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে।
অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, গত বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতে ৮৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। একই সময়ে শিল্প যন্ত্রপাতিতে ব্যয়ও কমেছে। ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, শুল্ক নীতির কারণে এসব নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ী মহলেও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। উইসকনসিনভিত্তিক এক উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী অস্টিন রামিরেজ বলেন, তারা গত বছর কোটি কোটি ডলার শুল্ক দিয়েছেন, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীতিগত অস্থিরতা। তার ভাষায়, “প্রতিদিন কী হবে তা অনুমান করতে হলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও দ্রুত স্পষ্টতা চেয়েছে। জার্মান শিল্প সংগঠন বিডিআই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগের বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, রায়ের ফলে কয়েক দশক আগের কিছু সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে, যেখানে আদালত প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাতিল হওয়া শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্নও জটিলতা তৈরি করবে। প্রতি মাসে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো অর্থ ফেরত দিতে হলে তা ১৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে শুল্ক ফেরতের অর্থ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক নীতির ভবিষ্যৎ, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র- bloomberg.
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর