ঝাড়খণ্ডে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে এক নারী এবং তার ১০ মাস বয়সী সন্তানকে ডাইনি সন্দেহে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামীও গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজছে। অভিযুক্তরা হেফাজতে রয়েছেন এবং এখনও কোনো মন্তব্য করেননি।
জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে জাদুবিদ্যার অভিযোগে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।
এই ঘটনায় কুদসাই গ্রামের পরিবেশও প্রভাবিত করেছে। রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে প্রায় ৫০টি মাটির ঘর রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামে কয়েকটি গবাদিপশুর আকস্মিক মৃত্যু এবং স্থানীয় বাসিন্দা পুস্টুন বিরুয়ার অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে সহিংসতার পথ খুলে দেয়।
পুস্টুনের স্ত্রী জানো বিরুয়া জানিয়েছেন, তার স্বামীর অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণে তারা একজন হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কারণ গ্রামের কোনো প্রশিক্ষিত ডাক্তার ছিলেন না।
ওই হাতুড়ে চিকিৎসক তাদের বলেন, পুস্টুনের শরীরে দৃশ্যমান কোনো রোগ নেই।
তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্নের জবাবে জানো বলেন, ‘আমরা খুব গরিব। এত দূরে হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের ছিল না।’ এ সময় গ্রামে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, জ্যোতি সিংকু নামে এক নারী জাদুটোনা বা ডাইনিবিদ্যা চর্চা করছেন এবং পুস্টুনের অসুস্থতার জন্য তিনিই দায়ী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্টুন বিরুয়ার মৃত্যু হয়।
জ্যোতির স্বামী কোলহান সিংকু, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, জানান—সেদিন রাতে প্রায় ১২ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিলেন। তারা তার স্ত্রী ও সন্তানের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কোলহান সেই ভয়াল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলাম। বলেছিলাম, বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত বা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হোক। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।’
কোলহান সিংকু ও পরিবারের আরেক সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হামলায় জড়িত অন্যদের ধরতে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে গ্রামাঞ্চলে বিশেষ প্রচার ও কর্মসূচি চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: বিবিসি
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর