নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় শিশুসহ অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।
তুঙ্গান দুতসে গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুরু হওয়া এই নারকীয় তাণ্ডব শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সশস্ত্র হামলাকারীরা শত শত মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বন্দুকধারীরা।
বুক্কুয়ুম সাউথ এলাকার নির্বাচিত আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ ও অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা না গেলেও স্থানীয় কর্মকর্তারা একটি তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
হামলার শিকার গ্রামবাসী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব ছিল। ৪১ বছর বয়সী আব্দুল্লাহি সানি, যিনি এই হামলায় তার পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছেন, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান হামলার একদিন আগেই অন্তত ১৫০টি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র লোকজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। এই আশঙ্কার কথা তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে হামলাকারীরা বিনা বাধায় দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামটিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সুযোগ পায়।
নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে বর্তমানে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী, ডাকাত এবং বিদ্রোহীদের একাধিক হুমকির মুখে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। গত সপ্তাহেই নাইজার রাজ্যের বোর্গু এলাকায় চালানো অভিযানে অন্তত ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে কঙ্কোসো গ্রামে ৩৮ জনকে অত্যন্ত নৃসংসভাবে গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছিল।
সুত্র: আল জাজিরার।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর