• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২২ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৪২ বিকাল

ইরানে ক্ষমতার জন্য লড়াই করা রেজা শাহ পহলাভি কে ছিলেন?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভি দেশে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘উপশম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, খামেনি ছিলেন ‘আমাদের সময়ের এক রক্তপিপাসু স্বৈরশাসক’। রেজা পাহলভি দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে তার শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে এবং খুব শিগ্রিই এটি ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষে মিলিত হবে। তিনি নিজেও ইরানে নেতৃত্ব গ্রহণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, খামেনির কোনো উত্তরসূরি নিয়োগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরানের জনগণকে তিনি জানান, এটি একটি ‘জাতীয় উৎসবের সূচনা’ হতে পারে, কিন্তু সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। সমালোচকরা মনে করেন, পাহলভি ঐক্যবদ্ধ নেতা নন এবং বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিবেচিত।

রেজা পাহলভি মূলত ইরানের রাজতান্ত্রিক পরিবারের উত্তরাধিকারী। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সময় তার বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হন। তখন রেজা যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ দেশ হারানোর পর তার পরিবার নির্বাসনে চলে যায়, আর তখন তাদের সমর্থন ছিল সীমিত কিছু রাজতন্ত্রপন্থি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর।

পরবর্তী কয়েক দশকে পাহলভি পরিবার বহু ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়। তার ছোট ভাই ও বোন দু’জনই আত্মহত্যা করেছেন। এভাবে, হারিয়ে যাওয়া রাজবংশের প্রতীকী নেতা হিসেবে রেজা পাহলভি অবশিষ্ট থাকেন।

বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছে এক শান্ত উপশহরে বসবাস করেন। সমর্থকেরা মনে করেন, তার জীবনযাপন সাধারণ, মানুষের সঙ্গে মিশে থাকেন, কোনো চোখে পড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং স্থানীয় ক্যাফেগুলোতে প্রায়শই স্ত্রী ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা যায়।

২০২২ সালে একজন পথচারী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কি ইরানের বিক্ষুব্ধ আন্দোলনের নেতা হিসেবে নিজেকে দেখেন। তখন তিনি ও তার স্ত্রী একসঙ্গে বলেন, পরিবর্তন আসবে দেশের ভেতর থেকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।

২০২৫ সালে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার পর, প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি জানান, তিনি ইরানের বর্তমান সরকার ভেঙে গেলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। সেই সময় তিনি ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি অতীত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা নয়, বরং ইরানিদের জন্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিষয়।

একটি রাজকীয় শৈশব

১৯৬০ সালের অক্টোবরে তেহরানে জন্ম নেন রেজা পাহলভি। তার বাবা আগেও দু'টো বিয়ে করেন। কিন্তু সেই দুই বিয়েতে কোনো পুত্রসন্তান না হওয়ায় তিনি ছিলেন শাহের উত্তরাধিকারী।

তাই, রেজা পাহলভির শৈশব কেটেছে রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার মাঝে। তিনি গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করেছেন, আর ছোটবেলা থেকেই রাজতন্ত্র রক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

১৭ বছর বয়সে তাকে যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পাঠানো হয়। কিন্তু দেশে ফিরে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বিপ্লবে তার বাবার শাসনের পতন ঘটে।

এরপর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন, আইনজীবী ও ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রেই তারা তাদের তিন কন্যা নূর, ইমন ও ফারাহকে নিয়ে সংসার গড়েন।

বিতর্কিত উত্তরাধিকার

নির্বাসনে থেকেও পাহলভি রাজতন্ত্রপন্থিদের কাছে একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে আছেন। অনেকের কাছে পাহলভি শাসনামল মানে দ্রুত আধুনিকায়ন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আবার অন্যদের স্মৃতিতে সেই সময়টি ছিল সেন্সরশিপ এবং ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত গোয়েন্দা সংস্থা সাভাক-এর আতঙ্ক।

বছরের পর বছর ধরে ইরানে তার জনপ্রিয়তা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৮০ সালে তিনি কায়রোতে একটি প্রতীকী রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠান করেন এবং নিজেকে শাহ ঘোষণা করেন।

যদিও এর বাস্তব বা রাজনৈতিক প্রভাব ছিল খুবই সামান্য। তবে তার কিছু সমালোচকের মতে, এই ঘটনাটি গণতান্ত্রিক সংস্কারের পক্ষে তার বর্তমান বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তিনি একাধিকবার বিরোধী রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে গঠিত ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইরান ফর ফ্রি ইলেকশনস-ও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং ইরানের ভেতরে সীমিত প্রভাব বা যোগাযোগের কারণে কার্যকর হতে পারেনি।

প্রবাসে থাকা কিছু বিরোধী গোষ্ঠীর মতো নন তিনি। পাহলভি ধারাবাহিকভাবে সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মুজাহিদিন-ই খালক (এমইকে)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তিনি বারবার শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা কী হবে, তা নির্ধারণের জন্য একটি জাতীয় গণভোটের কথা বলেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহলভিকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ দেখা গেছে। ২০১৭ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় তার দাদা রেজা শাহকে স্মরণ করে 'রেজা শাহ, তোমার আত্মা শান্তিতে থাকুক', এমন স্লোগান আবার শোনা যায়।

২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তা তাকে আবারও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনে।

ইরানের বিভক্ত বিরোধী শক্তিগুলোকে একত্রিত করার প্রচেষ্টার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে কিছুটা আগ্রহ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।

সমালোচকদের মতে, চার দশক ধরে নির্বাসিত জীবনে তিনি এখনো শক্ত কোনো সংগঠন বা স্বাধীন গণমাধ্যম গড়ে তুলতে পারেননি।

২০২৩ সালে তার ইসরাইল সফর নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। সেখানে তিনি হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কিছু ইরানি এটিকে বাস্তববাদী কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যদের চোখে এটি ইরানের আরব ও মুসলিম মিত্রদের দূরে সরে যাওয়ার মতো পদক্ষেপ।

সম্প্রতি ইরানের ভেতরে ইসরাইলি বিমান হামলার পর তাকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

বিবিসির লরা কুয়েন্সবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন ইসরাইলি হামলাকে তিনি সমর্থন করেন কি না।

জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ ইরানিরা এর লক্ষ্য নন। তার ভাষায়, শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করে দেয় এমন যে কোনো কিছুকে ইরানের অনেক মানুষ স্বাগত জানাবে। এই মন্তব্যকে ঘিরে তখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

আজ রেজা পাহলভি নিজেকে শুধু 'সিংহাসনের উত্তরাধিকারী' হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, তার লক্ষ্য ইরানকে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন এবং নারীদের সমান অধিকারের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা এবং রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে নাকি প্রজাতন্ত্র গড়া হবে, সে সিদ্ধান্ত তিনি গণভোটের মাধ্যমে জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে চান।

সমর্থকদের চোখে, শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষে তার দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে তিনি বিরোধীদের মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য নেতা।

সমালোচকদের পাল্টা যুক্তি হলো, তিনি এখনো বিদেশি সমর্থনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল। আর, কয়েক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত জনগণ আদৌ কোনো নির্বাসিত নেতার ওপর আস্থা রাখতে প্রস্তুত কি না, সেটিও একটি প্রশ্নের বিষয়।

ইরানের সরকার রেজা পাহলভিকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করলেও, মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ ও বিশ্বাসযোগ্য জনমত জরিপ ছাড়া তার প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

কিছু ইরানি এখনো তার পারিবারিক নামকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। আবার অন্যদের আশঙ্কা হলো, গণতন্ত্রের মোড়কে হলেও, এতে এক অনির্বাচিত শাসকের জায়গায় আরেকজন অনির্বাচিত শাসকই এসে বসতে পারেন।

পাহলভির বাবার মরদেহ এখনো কায়রোতেই সমাহিত রয়েছে। রাজতন্ত্রপন্থীদের আশা, একদিন সেটি প্রতীকীভাবে ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।

নির্বাসিত এই যুবরাজ সেই দিনটি অথবা স্বাধীন ইরানকে আদৌ দেখবেন কি না, তা এখনো অজানা। অতীতের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা এই দেশের বহু প্রশ্নের মাঝে এটিও একটি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com