বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড-এর কার্যালয়ে বহিরাগত মকবুল হোসেন সর্দার কর্তৃক ২ শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে 'মব' সৃষ্টি করে হামলা-ভাংচুর, অর্থ লুট, সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তাকে মারধর-প্রাণনাশের হুমকী ও কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে তালা লাগিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা।
আজ১লা মার্চ ২০২৬ খ্রী: (রোববার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড-এর সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা। তিনি বলেন, রেজিস্টিকৃত এরকম একটি অফিসে বহিরাগতদের এরকম মব সৃষ্টি এবং হামলা হবে তা কখনো কল্পনা করিনি। সন্ত্রাসীরাএক পর্যায়ে সমিতির সভাপতিসহ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বের করে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। চলে যাবার সময় মকবুল হোসেন সর্দার বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে। এ বিষয়টি জানিয়ে মতিঝিল থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের অভিযোগের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
আপনাদের সমীপে জানাচ্ছি যে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রতীকমকবুল হোসেন সর্দার- মহানগরীর মতিঝিল, ধানমন্ডি ও নিউ মার্কেট এলাকার চাঁদাবাজি ও ভয়ংকর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। তার স্ত্রী জান্নাত জাহান চামেলী ওরফে লুনা হোসেন নিউমার্কেট-ধানমন্ডি থানা এলাকার মহিলা যুবলীগ নেত্রী। আর তিনি বিএনপি নেতা। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মকবুল হোসেন সর্দার ছিলেন স্ত্রীর ক্ষমতায় ক্ষমতাধর। আর এখন বিএনপির নেতা হিসেবে ক্ষমতাধর। স্ত্রীর ক্ষমতায় গত ১৫ বছরে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি দোকান জবরদখল করে নেন। নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোড ও ধানমন্ডিতে করেছেন নীরব চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য। আর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দখল করে নেন জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড-এর মালকানাধীন আরো একটি দোকান। শুধু তাই নয়, প্রতি মাসে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা আদায় করেন, যা আগে যুবমহিলালীগ নেত্রী ও তার স্ত্রী লুনা হোসেনের কল্যাণে আদায় করতেন।
মকবুল হোসেন সর্দারের তালা মেরে দেয়া বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি একটি নিবন্ধিত সমবায় সংগঠন, যার নিবন্ধন নং-০১ (তারিখ: ১২-০২-১৯৫৪ইং)। ৮৮% মালিকানা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এবং অবশিষ্ট ১২% মালিকানা বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেডের ক্ষুদ্র সমবায়ীদের। ক্ষুদ্র তাঁতীদের উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য ঢাকা গভঃ নিউমার্কেটস্থ (দোকান নং-২৬১, ২৬২,২৬৩) ৩টি (তিন) দোকান ১৯৬৩ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন তাঁতী হতে বরাদ্দপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পাওনা পরিশোধ করে আসছে। এই দোকানমূহে ক্ষুদ্র সমবায়ীদের উৎপাদিত বস্ত্র প্রদর্শনীর জন্যও সমবায় বিপনী বিতান' চালু ছিল। মকবুল হোসেন সর্দার ও তার স্ত্রী যুব-মহিলালীগ নেত্রী জান্নাত জাহান চামেলীর (লুনা হোসেন) লোলুপ দৃষ্টি পড়ে এই ৩টি দোকানের ওপড় । মকবুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দোকানগুলো দখলে নিয়ে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করছে। ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন দোকানের মালিকানা বা ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে পর পর দুইবার নোটিশ দিয়ে উপস্থিত হবার নির্দেশ দিলেও মকবুল হোসেন সর্দার হাজির হয়নি। পেশী শক্তির মাধ্যমে দখলদারি কায়েম রেখে সমিতির অসহায় তাঁতী সম্প্রদায় ও সরকারকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করছে।সম্মানীত কলম যোদ্ধা :ভয়ংকর বিএনপির নেতা মকবুল হোসেন সর্দার ও মহিলা-যুবলীগ নেত্রী জান্নাত জাহান চামেলী (লুনা হোসেন) যৌথভাবে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড-এর কার্যালয় দখল করে নিয়েছে। দখলের আগে বহিরাগত মকবুল হোসেন সর্দার ২ শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে মব' সৃষ্টি করে হামলা-ভাংচুর করে আমার কাছে রক্ষিত অর্থ লুটে নেয়। আমি একজন নির্বাচিত সভাপতি। সে আমাকে ও সমিতির সেক্রেটারী আনোয়ার হোসেনকে মারধর ও বের করে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। আমি সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান, তাঁতী সমবায়ীদের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আমরা আজ আপনাদের সামনে এই স্বামী-স্ত্রীর যৌথ সন্ত্রাসী কর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হাজির হয়েছি।
আমরা আপনাদের স্মরণাপন্ন হয়েছি, ক্ষুদ্র তাঁতী ও সমবায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আমি ও আমার পরিবার, কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ চরম নিরাপত্তাহীনতায় পতিত হয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী এই সন্ত্রাসী ও অবৈধ দখলবাজ দম্পতির সকল অপকর্মের বিচার দাবি করছি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর