ইরানে টানা তিন দিন ধরে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই দুই দেশের সামরিক চাপের মুখে পড়েও ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাল্টা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে সংঘাত প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ইউরোপের তিন দেশ—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য—এর অবস্থানে। রোববার (১ মার্চ) প্যারিস, লন্ডন ও বার্লিন জানায়, প্রয়োজনে তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত, যাতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের ও মিত্রদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা যায়।
তিন দেশের নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান যেভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর নির্বিচারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক অভিযানে জড়িত ছিল না, তারাও হামলার শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের এই হামলা ইউরোপীয় দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের কর্মী ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়।
কঠোর সতর্কবার্তায় জানানো হয়, নিজেদের ও আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার উৎসস্থলেই ইরানের সক্ষমতা নষ্ট করতে ‘প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
জার্মান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, ইরানের হামলায় উত্তর ইরাকের এরবিলে একটি বহুজাতিক সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানের পূর্বাঞ্চলে একটি জার্মান সামরিক ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) রোববার (১ মার্চ) এক ‘ব্যাপক আকারের’ হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর রিয়াদ, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামা, জেরুজালেম ও তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানায়, বেইত শেম শহরে অন্তত ৯জন নিহত হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে নিজেদের বৈধ দায়িত্ব ও অধিকার বলে মনে করে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার মার্কিন চ্যানেল এবিসি নিউজকে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমরা নিজেদের রক্ষা করছি। আমাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য আমরা কোনো সীমাবদ্ধতায় বিশ্বাস করি না।’
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর