পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বলেছেন, "একটা রেভুলেশন বা বিপ্লব আমাদের গন্তব্য নয়, আসলে এটা একটা যাত্রার শুরু। এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে।" তিনি আরও বলেন, যে পৃথিবীটা দেখা যায়, তার বাইরেও একটা পৃথিবী আছে। সেই অজানা পৃথিবীটা দেখার ইচ্ছা থেকেই অনিয়মের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সাধিত হয়েছে।
সাংসদ বলেন, "আমরা যদি মনে করি যে বিপ্লব হয়ে গেছে, সব শেষ, সব প্রাপ্তি হয়েছে, আসলে তা নয়। এটা হচ্ছে যাত্রা শুরু, এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, আমরা সব সময় মনে করি যে কোনো একটা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে আসলে সেখান থেকেই আমাদের যাত্রার শুরু। লক্ষ্যে পৌঁছে যদি মনে করি চিন্তার কিছু নেই, আসলে তা নয়, সেইখান থেকেই আমাদের চিন্তা শুরু।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নওশাদ জমির বলেন, "এই যে তোমাদের সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, এই পরীক্ষাটাই কি শেষ? আসলে তা নয়। এই পরীক্ষাটা দিয়ে জীবনের আরেকটা ধাপ শুরু।" তিনি আরও বলেন, এই পরীক্ষা শেষ করে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, কেউ কারিগরি পড়াশোনায় যাবে, কেউ কৃষিতে যাবে, কেউ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করবে। আসলে একটার পথচলা শেষ, আরেকটা ধাপের পথচলা শুরু। আর এটিই হচ্ছে বিপ্লবের আসল বার্তা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি বলেন, "তোমরা যখন ইতিহাস পড়বে, তখন ১৯৫২-৪৭-এর আগে থেকে ইতিহাস পড়বে।" গণতন্ত্র নিয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, আমরা মনে করি এটি পশ্চিমা চিন্তাভাবনা, আমরা এটি ধার করে এনেছি। ব্যাপারটি কিন্তু সেরকম না। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, পাল বংশ যখন রাজত্ব শুরু করে, তখন পাল বংশের রাজা যখন দুই দেশে রাজত্ব শুরু করেন, তখন কয়েকটি গোত্রের মানুষদের দিয়ে গোপাল রাজা নির্বাচিত করেছিলেন। এটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চার বাংলাদেশে শুরু। এজন্য কোনো ধার করা চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছি না, এটা আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য, যা অনেক পুরোনো।
এবারের বাজেটে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে এবং দেশের সব জেলায় ভাষা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। পঞ্চগড়-১ আসনের এই এমপি বলেন, জগদল কলেজের বাউন্ডারি, ডিগ্রি, অনার্স প্রভাষকদের পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্তিসহ তার মেয়াদে কলেজটির সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন।
ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের জগদল ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ ও শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব মানিক, গভর্নিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আদম সুফি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবুসহ কলেজটির নবীন এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল। এর আগে সাংসদ নওশাদ জমির কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় ফলজ ও বনজ গাছের চারা হিসেবে জলপাই এবং মেহগনী চারা রোপণ করেন।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর