২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক কেপ ভার্দে রাউন্ড অফ-৩২ এ আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে এক ব্রাজিলীয় নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে মেন্দেসের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ মার্চ, যখন ফিফা সিরিজ টুর্নামেন্ট খেলতে কেপ ভার্দে দল অকল্যান্ডে অবস্থান করছিল। অভিযোগকারী নারী সেখানে ব্রাজিলীয় ফুটবল ফেডারেশনের নিয়োগে দোভাষী ও সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন এবং দলের সঙ্গে একই হোটেলে থাকতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিলির বিপক্ষে ম্যাচের পর তাকে একটি বৈঠকে ডাকা হয়, যা তিনি কাজের অংশ বলে মনে করেছিলেন। পরে সেটিকে একটি অনানুষ্ঠানিক সামাজিক আয়োজন হিসেবে জানা যায়। এরপর তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর রায়ান মেন্দেস তার কক্ষে প্রবেশ করে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের সমর্থনে ওই নারী শরীরে আঘাতের ছবি এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পুলিশকে দিয়েছেন। যৌন সহিংসতার শিকারদের জন্য বিশেষায়িত একটি ক্লিনিকে তার ফরেনসিক পরীক্ষা ও মানসিক সহায়তাও দেওয়া হয়। চিকিৎসা প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের উল্লেখ রয়েছে, যা অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড পুলিশ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গোপনীয়তা আইনের কারণে কারও নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তের অংশ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগকারী ও তার স্বামী ফিফা এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন, যেখানে তদন্ত চলাকালীন মেন্দেসকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
যদি তদন্তে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি নিউজিল্যান্ডের আদালতে যাবে। দেশটির আইন অনুযায়ী যৌন সহিংসতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর