লিওনেল মেসির গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, এটাই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ এবং শেষ বড় অর্জন। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলা হয়।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এবং নিজের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে গোল না করলেও দুটি অ্যাসিস্ট করে জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসির গোল ৮টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে থাকা এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক অ্যাসিস্টের দিক থেকেও অন্যতম সেরা।
আগামী রোববার নিউ জার্সিতে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় কাটানো মেসির জন্য ম্যাচটি হবে বিশেষ এক লড়াই।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘সে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। আর কী করলে সেটা প্রমাণ হবে, আমি জানি না। স্পেনের অধিকাংশ মানুষও তাকে ভালোবাসে।’
বিবিসির বিশ্লেষক ও সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার দলে লিওনেল মেসি আছে। তাদের কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার আছে। এটাই পার্থক্য। এ কারণেই সে রাজা।’
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে খুব বেশি সুযোগ পাননি মেসি। তবে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা এবং শেষ ৩৭ মিনিটে বলের দখল রাখে প্রায় ৮৮ শতাংশ।
ডান প্রান্তে সরে গিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করেন মেসি। ম্যাচে তিনি ৯টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন এবং দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একই ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবল ও দুটি অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার তিনি।
এছাড়া ম্যাচে প্রতিপক্ষের বক্সে মেসির স্পর্শ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সম্মিলিত সংখ্যার সমান। তিনি ৪টি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং সর্বোচ্চ ৯টি ক্রসও দেন।
৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক হেড—দুটি গোলই এসেছে মেসির পাস থেকে।
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বলেন, ‘মেসিকে ডান উইংয়ে নেওয়াটাই আমাদের জন্য ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’
মিকা রিচার্ডসের ভাষায়, ‘সে অনেক সময় মাঠে হেঁটে বেড়ায়। কিন্তু বল পায়ে এলেই জেগে ওঠে। তখনই তার প্রতিভা ফুটে ওঠে এবং সেটাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।’
সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, ‘ইংল্যান্ড রক্ষণে নেমে যাওয়ায় মেসি আরও বেশি জায়গা পেয়ে যায়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ ১৫ মিনিটে সে পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও মেসির প্রশংসা করে বলেন, ‘ম্যাচের বড় একটা সময় আমরা তাকে ভালোভাবেই সামলেছি। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মতো বল পেলেই সে কিছু না কিছু তৈরি করতে পারে। এ কারণেই সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা।’
সূত্র: বিবিসি স্পোর্ট
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর