কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবের বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক লুট করে নিয়ে গেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বর্তমানে মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত।
তিনি জানান, গভীর রাতে একটি গাড়ির শব্দ শুনে বাড়ির বাইরে বের হলে আশপাশের আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি দ্রুত এসে পাশের একটি কবরস্থানের কাছে থামে।
তার ভাষ্য, গাড়ি থেকে সিভিল পোশাক পরা ছয় ব্যক্তি নেমে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। তারা গভীর রাতে বাইরে অবস্থানের কারণ, পেশা ও পরিচয় জানতে চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিরা তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে আলাদা স্থানে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে যান।
তিনি বলেন, তাদের পুলিশ সদস্য ভেবেই আমি বাড়িতে নিয়ে যাই। কিন্তু ফটক দিয়ে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও অস্ত্রের মুখে নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে ডাকাতরা রেজাউল করিমের বড় ভাই, প্রবাসী জমির আলমের কক্ষে ঢোকে। সেখানে তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিহিত স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে। এরপর ডাকাত দলের কয়েকজন রেজাউল করিমের কক্ষে প্রবেশ করে তার স্ত্রী তাসফিয়া সুলতানা কাজলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। আলমারির তালা ভেঙে সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে রেজাউল করিমকে মারধর এবং অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার আগে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে রেখে পালিয়ে যায়।
প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, তারা পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢোকে। পরে অস্ত্র ও ছুরি বের করে সবাইকে জিম্মি করে। আমাকে মারধর করে গায়ে থাকা সব স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। এরপর আলমারি ভেঙে টাকা ও গয়না নিয়ে যায়। এমনকি বাচ্চাদের জমানো খুচরা টাকার ব্যাংকটিও নিয়ে গেছে।
রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সুলতানা কাজল বলেন, তারা আমার স্বামীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। এরপর কক্ষে ঢুকে আলমারির চাবি খুঁজতে থাকে। চাবি না পেয়ে আলমারি ভেঙে আমার বিয়েতে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আমার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ঘটনার পর খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর