'খোকা চায় পাখি, পাখি চায় বন—স্বাধীন মুক্ত প্রাণ, কণ্ঠে তাহার জাগে ক্ষণে ক্ষণে নীল আকাশের গান'—কবি বন্দে আলী মিয়ার এই চরণ যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম কিশোরনগরে। জীববৈচিত্র্য সংকটের এ সময়ে গ্রামটি এখন বালিহাঁস, বক, পানকৌড়ি, ডাহুকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিনই পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠা এই গ্রাম দেখতে ভিড় করছেন শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী দর্শনার্থীরা। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম গড়ে ওঠায় বিস্ময় প্রকাশ করছেন পাখিপ্রেমী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে চারটি পরিবারের মালিকানাধীন বাঁশঝাড়, পুকুর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আশ্রয় নেয়। জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত প্রায় তিন থেকে চার মাস এসব পাখি এখানে অবস্থান করে। স্থানীয়দের সচেতনতার কারণে পাখি শিকারের ঘটনা খুব একটা না ঘটলেও মাঝে মধ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি ধরার চেষ্টা করে।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন কিশোরনগর গ্রামের পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল পরিদর্শন করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, জমির মালিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় কিশোরনগরের পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রকৌশলী তফাজ্জলকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের একটি সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, জমির মালিক রোকনুজ্জামান, অলিউল্লাহ, মাহবুব ও নজরুল ইসলাম এবং কিশোরকণ্ঠ ইউনিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পাখির আবাসস্থলের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, প্রয়োজনীয় স্থানে বেড়া বা তারকাঁটা দেওয়া, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুলতান আহমেদ, বিএনপি নেতা মাসুম, বন বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, জমির মালিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরনগরের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভবিষ্যতেও পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন,পরিযায়ী পাখি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর