ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের উদ্যোগে পৃথক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এমবিএ ভবনস্থ অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্রায়ণের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আল আমিন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত এবং এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থী আহসান কবিরের বাবা মাস্টার হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আন্দোলনে আহত অনুষদের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, ভিন্নমত দমন করে এবং কুশাসনের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
উপাচার্য তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমত দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার নানা ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন আশা দেখিয়েছে। সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো ছিল শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
একই দিন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অডিটোরিয়ামে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের উদ্যোগে ‘রক্তাক্ত জুলাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবিরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. মোস্তফা আল মামুন।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল : হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের উদ্যোগে এউপলক্ষ্যে গতকাল ০৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার ‘রক্তস্নাত জুলাই, চেতনায় অনিবার্ণ’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এসময় হল সংসদের ভিপি, জিএস এবং শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, দেয়ালিকা উদ্বোধন এবং ফ্রি মেডিকেল চেক-আপ করা হয়।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল : শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের উদ্যোগে এ উপলক্ষ্যে গত ০৪ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা, স্থিরচিত্র এবং অভ্যুত্থান শীর্ষক স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
দোয়া মাহফিল : জুলাই-শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় গতকাল ০৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার বাদ আছর কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়া’য় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক-সহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী দোয়া মাহফিল অংশ নেন।
বিশেষ প্রার্থনা সভা: এউপলক্ষ্যে গতকাল ০৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ মি. দেবাশীষ পাল, আবাসিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর