রাজবাড়ীর পাংশায় লিজা হেল্থ কেয়ারের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাজাহান এস শোয়েবের বিরুদ্ধে গর্ভবতী নারীকে ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।
গত দুইদিন যাবত লিজা হেলথ কেয়ার ও ডাঃ শাজাহান এস শোয়েবকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা করে যাচ্ছেন নেটিজেনরা।
আনিছুর রহমান নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, লিজা হেলথ কেয়ার নানা ধরনের অপরাধ মুলক কাজে পাকাপোক্ত। বাচ্চা এবরশন এর মতো জঘন্য কাজ করে থাকে। আমি তার স্বাক্ষী। ক্ষমতার অপব্যবহার করছিল আমার সাথে ২০২১ সালের প্রথম দিকে। ঐ সময় কবিতা নার্স, ম্যানেজার সহ কিছু লোক সরাসরি জরিত ছিল। আমার পাংশাতে কোন লোক নাই ওদেরকে প্রতিরোধ করার মতো।
এস কে পাল নামের আরেক লিখেছেন, লিজা হেল্থ কেয়ারের আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট প্রায়ই ভুল হয়।
সুজন শেখ লিখেন, সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান না এটা শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ত শোষক প্রতিষ্ঠান।
মিঠুন গোস্বামী নামে সচেতন নাগরিক লিখেছেন, একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে দিতে পারলেই বিল ভাউচার করা যায়, সেখানে রিপোর্ট যাই আসুক না আসুক কর্তৃপক্ষের তাতে কি যায় আসে! বর্তমানে চিকিৎসা সেবায় সব
থেকে বেশি অনিয়ম। পব্লেম হচ্ছে এখানে দেখার কেউ নেই।
ভুক্তভোগী গর্ভবতী নারী রিপা জানান, গত ৩১ শে জুলাই লিজা হেল্থ কেয়ারের ডাঃ শাজাহান এস শোয়েব যে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে সেখানে (AFI) 4.5 cm, দেখানো হয়। যেটা গর্ভাবস্থায় বাচ্চার পানির পরিমানকে বুঝায়। ঔ পরিমাণে পানি থাকলে গর্ভের বাচ্চা অধিক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। পরে সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জয়েন্ত বাছার রিপোর্ট দেখে বেশ কিছু ঔষুধ লেখেন। আমাদের কাছে রিপোর্ট সন্দেহজনক হওয়ায় পহেলা আগস্ট আমরা ফরিদপুর নূর স্পেসালাইষ্ট হাসপাতালে যাই সেখানে যাওয়ার পর ডাঃ শংকর কুমার দে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট করেন, রিপোর্টে দেখা যায় (AFI) 10 cm, আছে। পরে অধ্যাপক ডাঃ দিলরুবা জেবা কে রিপোর্ট দেখানো হলে রিপোর্ট দুইটা দেখে ডাঃ দিলরুবা আকাশ পাতাল ব্যবধান খুঁজে পান। এরপর নূর স্পেসালাইষ্ট হাসপাতালের রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু ঔষুধ লিখে দেন।
তিনি আরো বলেন, এখন কথা হচ্ছে আমরা না হয় ফরিদপুর গিয়ে বিষয়টি আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি। যদি ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের কারণে ডাঃ জয়ন্তী বাসারের দেওয়া ঔষুধ গুলো গর্ভবতীকে দেওয়া হত এতে যদি গর্ভপাত হয়ে যেত এর দায়ভারটা কে নিত। এক ব্যাগ ব্লাড নিতে বলা হয়েছিল যেটা গর্ভাবস্থায় ৩৩ সপ্তাহে বেশ ঝুকিপূর্ণ। এই রকম হাজার মায়ের স্বপ্ন ভুল চিকিৎসার কারনে শেষ হয়ে যাচ্ছে । এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে। এ রকম যেন আর পুনরায় না ঘটে। ডাক্তার ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান তিনি।
আল্ট্রাসনোগ্রাম ভুল রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে লিজা হেলথ কেয়ারের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাজাহান এস শোয়েব অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর