জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ ডিএএডি হেলমুট-স্মিট প্রোগ্রাম (DAAD Helmut-Schmidt Programme—Public Policy and Good Governance) এ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জুহি।
এ স্কলারশিপের মাধ্যমে তিনি জার্মানির ওসনাব্রুক ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এ (Osnabrück University of Applied Sciences) ‘ম্যানেজমেন্ট ইন নন-প্রফিট অর্গানাইজেশনস’ (Management in Nonprofit Organisations) বিষয়ে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পেয়েছেন। এ প্রোগ্রামে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও শতভাগ অর্থায়নে পরিচালিত এ স্কলারশিপের আওতায় সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবীমা, বিমান ভাড়া, বার্ষিক গবেষণা অনুদান এবং জার্মানিতে পৌঁছানোর পর চার মাসের পূর্ণকালীন ভাষা শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
তাছাড়াও একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণাক্ষেত্রেও জুহি'র রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তাঁর সিজিপিএ ৩.৬৯ এবং আইইএলটিএস স্কোর ৭.০। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে তাঁর তিনটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে দুইটি Q1 এবং একটি Q2 ক্যাটাগরির জার্নালে প্রকাশিত। এছাড়া দুইটি কনফারেন্স পেপার উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। একটি আন্তর্জাতিক এনজিও (INGO) থেকে গবেষণা অনুদানও পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর আরও দুটি গবেষণাপত্র পিয়ার-রিভিউ বা পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ‘গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ’ (GTA)-সহ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ এবং ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন থেকেও স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পেয়েছিলেন জুহি।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিকাশেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। তরুণদের সামাজিক সংগঠন ‘টুওয়ার্ডস সাস্টেইনেবিলিটি’ (Towards Sustainability)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অরপা (ARPA)-তে কনসালটেন্ট হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।
ডিএএডি হেলমুট-স্মিট স্কলারশিপ অর্জনের মাধ্যমে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জুহি বলেন, অনুভূতিটা অত্যন্ত গর্বের এবং দায়িত্ববোধের। প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, এই অর্জনটি বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ও বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আসতে ভূমিকা পালন করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তাঁর এ অর্জন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও উৎসাহিত করবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর