ইরানকে মোট ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। এর প্রথম কিস্তি হিসেবে এক বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে মস্কো। তেহরান প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফার্স জানায়, এক বিলিয়ন ডলারের ঋণের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও সেটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে এখনো রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেয়নি তেহরান।
ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যয় করা হোক। ফলে ঋণের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার ৬ শতাংশ হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দীর্ঘদিন ধরে চাপে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।
সূত্র: আনাদোলু
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর