দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস সংকট কেটে যাবে। এর ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে সংকট নিয়ে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ সমালোচনাকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একদিকে পেছনে ফ্যানের বাতাস খেয়ে, অন্যদিকে হাতে হারিকেন নিয়ে ‘গ্যাস দাও, বিদ্যুৎ দাও’ বলা হঠকারিতা। তার দাবি, সমালোচনাকারীদের রাজনৈতিক সহযোগীরাই আগে ক্ষমতায় ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সংকট মোকাবিলায় চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গেও সরকার আলোচনা করেছে বলে জানান তিনি।
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া-মোনাজাত ও অসহায়-দরিদ্রদের মধ্যে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তবে এমন পরিকল্পনা দিতে না পারলে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বিরোধীদের বিভ্রান্তি ও হঠকারী রাজনীতি পরিহার করে জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজপথে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ বলেও মন্তব্য করেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সমালোচনা করা সহজ; সাহস থাকলে মাঠে নেমে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। যারা এখন বড় বড় কথা বলছেন, তাদের দীর্ঘ সময় রাজপথে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর কীভাবে নির্যাতন সহ্য করেছেন, তা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন দেখলেই জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে তারা ভুল করেছে। ২০২৪ সালেও ‘টিকিট বিক্রি করে’ ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এখন উসকানি ও বিভ্রান্তির রাজনীতি পরিহার করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। নিজের জন্য কী পাওয়া গেল, তার চেয়ে জনগণের জন্য কী করা গেল—এটাই গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গঠনে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সেই পথ অনুসরণ করার কথাও বলেন তিনি।
নিজের সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি শিশুর হাঁটতে শেখার ক্ষেত্রেও প্রায় এক বছর সময় লাগে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এরই মধ্যে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার মেগাপ্রকল্পের আড়ালে ‘মেগা দুর্নীতি’ করেছে এবং দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ দেনা রেখে যাওয়ার কারণে বর্তমান সময়ে মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ভুগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানের অভিযোগ, দেশে নিজস্ব গ্যাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও আগের সরকার নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেয়নি। বরং দেশের গ্যাস খাত বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতকেও ধ্বংস করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে। গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। দেশ ও জনগণের কল্যাণে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সরকার সেগুলোই বাস্তবায়ন করবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর