দীর্ঘদিন মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) ভুগে মারা গেছেন মিসরীয় অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী। সোমবার (১৭ আগস্ট) তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৫০ বা ৫১ বছর।
মিসরের অভিনেতা সিন্ডিকেটের প্রধান আশরাফ জাকি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসজনিত জটিলতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমর মোহাম্মদ আলীর শারীরিক সক্ষমতা ও চলাফেরা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
মিসরীয় সংবাদমাধ্যম আল ওয়াতানের বরাত দিয়ে তাঁর ভাই আহমেদ জানান, মৃত্যুর আগের কয়েক দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি নিজে দাঁড়াতে বা চলাফেরা করতে পারছিলেন না এবং শেষ দিকে খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে পা রাখেন আমর মোহাম্মদ আলী। পরবর্তী সময়ে মিসরের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মিস্টার কারাতে’, ‘রাইয়া অ্যান্ড সাকিনা’, ‘হাওয়া ওয়াল তুফাহা’ এবং ‘হিকায়াত ম্যাগনুনাহ’। প্রয়াত অভিনেতা নূর এল শরিফের সঙ্গে ‘এইশ আয়ামাক’ নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি।
তবে টেলিভিশন নাটক ‘আরাবেস্ক’-এ সালাহ এল সাদানির বিপরীতে ‘শাকশাক’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান আমর। ২০০৬ সালে প্রচারিত ‘হাদায়েক আল-শাইতান’ ছিল তাঁর শেষ অভিনয়কর্ম। এরপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে চলে যান তিনি।
প্রায় ১৭ বছর জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর আমর মোহাম্মদ আলী আবার সাক্ষাৎকারে ফিরে আসেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস তাঁর চলাফেরা, ভারসাম্য ও দৃষ্টিশক্তিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। তবুও সুস্থ হয়ে আবার অভিনয়ে ফেরার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
অসুস্থতার সময়ে মিসরের অভিনেতা সিন্ডিকেটও তাঁকে সহায়তা করে। সংগঠনটি তাঁকে সদস্যপদ দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ পেনশনের ব্যবস্থাও করেছিল।
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএস একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডসহ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এ রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত স্নায়ুতন্তুকে ঘিরে থাকা মাইলিন নামের সুরক্ষামূলক আবরণে আক্রমণ করে।
এর ফলে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেতের আদান-প্রদান ব্যাহত হতে পারে। এ রোগে অসাড়তা, পেশির দুর্বলতা, হাঁটতে সমস্যা, ভারসাম্য ও সমন্বয়ের সমস্যা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, মাথা ঘোরা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। তবে বিভিন্ন চিকিৎসা, রোগ-নিয়ন্ত্রণকারী থেরাপি, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অনেক রোগীর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব।
সূত্র: গালফ নিউজ ও মিসরীয় সংবাদমাধ্যম আল ওয়াতান।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর