মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা ‘বোর্নিও ইন্টারন্যাশনাল ইনোভেশন ক্রিয়েটিভিটি কম্পিটিশন (BIICC) ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক পর্বে জোড়া সাফল্য অর্জন করেছেন নাটোরের সিংড়ার তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আলিম। তাঁর উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘বিন টু বেনিফিট’-এর জন্য তিনি প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ‘BIICC Sustainable Development Goal Environmental Award’।
‘মালয়েশিয়া ইয়ং সায়েন্টিস্ট অর্গানাইজেশন (MYSO)’-এর উদ্যোগে এবং ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ (UMS)’-এর সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের তরুণ উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া ইয়ং সায়েন্টিস্ট অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট ড. রাজমি বিন আবদুল রাজাক এবং ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাসিম হাজী মানসোর।
আব্দুল্লাহ আলিমের উদ্ভাবিত ‘বিন টু বেনিফিট’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেন্সর ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট ডাস্টবিনে জমে থাকা বর্জ্যের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডাস্টবিনের অবস্থান ট্র্যাকিং এবং উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
উদ্ভাবনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলতে উৎসাহিত করতে অ্যাপভিত্তিক ‘গ্রিন কয়েন’ রিওয়ার্ড ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এসব কয়েন ব্যবহার করে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবক।
এর আগে BIICC ২০২৬-এর জাতীয় পর্বেও স্বর্ণপদক অর্জন করেন আব্দুল্লাহ আলিম। জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই প্রকল্পের জন্য এবার স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক বিশেষ পুরস্কারও অর্জন করলেন।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে আব্দুল্লাহ আলিম বলেন, এই অর্জন আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরতে পেরে আমি গর্বিত।
আব্দুল্লাহ আলিম নাটোরের সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের বড় ছেলে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণ আলিমের এমন আন্তর্জাতিক অর্জন স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর