দীর্ঘ দেড় বছর ধরেই মাদরাসায় অনুপস্থিত। নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না গেলেও শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার নামের পাশে ঠিকই হচ্ছে স্বাক্ষর। অভিযোগ রয়েছে মাদরাসা ছুটির আগমুহূর্তে একই মাদরাসার এক সহকারি শিক্ষক হাজিরা খাতায় গড় স্বাক্ষর করে দেন। এছাড়াও তার পরিবর্তে রাখা হয়েছে প্রক্সি শিক্ষক। অনেক শিক্ষার্থী তাকে কখনো দেখেননি। তবুও ব্যাংক থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী আমিরাবাদ দাখিল মাদরাসার এবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষিকা রাখী সুলতানা।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রাখী সুলতানা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাতৃত্ব কালিন ছুটি নেন। নিয়মানুযায়ী ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও পরে আর তিনি মাদরাসায় যাননি বলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভাষ্য। কর্মক্ষেত্রে তার ফাঁকিবাজির এমন কান্ডে নাখোশ স্থানীয়রা। সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পলাশতলী আমিরাবাদ দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা রাখী সুলতানা অনুপস্থিত। ওই সময়ে রাখী সুলতানার ৫ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান ক্লাস করানোর কথা থাকলেও তার অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে হট্টগোল করছেন।
এসময় এবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে যা জানাযায় তা যেনো চোখ কপালে উঠার মতো। রাখী সুলতানা দীর্ঘদিন ধরেই মাদরাসায় আসেননা। তার পরিবর্তে ভাড়াটে ভিন্ন এক শিক্ষক দিয়ে এবতেদায়ীর বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস নেওয়া হয়। বিশ্বস্ত সুত্রে জানাগেছে,অভিযুক্ত শিক্ষিকা রাখী সুলতানার গ্রামের বাড়ি মাদরাসা থেকে বেশ দূরে হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আমিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান রেজার সঙ্গে মাদরাসায় না আসার শর্তে বেতনের অর্ধেক টাকা দিয়ে দেন। সেই টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে রোকসানা আক্তারকে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাহমুদুল হাসান রেজা রাখী সুলতানার হাজিরাতে স্বাক্ষর করে দেওয়ার কথা জানাগেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মাহমুদুল হাসান রেজা।
তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া,তাসমিয়া ও তাঁদের সহপাঠীরা জানায়,রাখী ম্যাডাম দীর্ঘ দেড় দুই বছর ধরেই মাদরাসায় আসেননা। রোকসানা আক্তার নামে একজন (প্রক্সি) শিক্ষক দিয়ে তাদেরকে ইংরেজি পড়ানো হয়। এর আগে রুনা আক্তার নামে আরেক বহিরাগত তাদের পড়াইতেন বলেও জানান। এবতেদায়ী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসমাইল ও সামিউল হাসান বলেন,আমরা যখন ক্লাস থ্রীতে পড়ে তখন রাখী ম্যডামকে দেখেছি তার পর আর তাকে দেখিনি। অন্য শিক্ষকরা আসলেও তিনি আসেন না। কি জন্য আসেননা তা স্যারেরা বলতে পারবে। স্থানীয় মজিবুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন,আমাদের এলাকার লোকজন ও অভিভাবকদের বুজানো হয়েছে রাখী ম্যাডাম বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছে তাই তিনি আসেননা। আসলে তিনি বদলি না হয়ে বেতনের অর্ধেক টাকা সুপারের কাছে দিয়ে দিতেন। শিক্ষার্থীদেরকে না পড়িয়ে অহেতুক বেতন নেওয়ার এমন ছলচাতুরীর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রাখী সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করে বলেন গত বৃহস্পতিবার তিনি মুঠোফোনে ভারপ্রাপ্ত সুপারের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি কত তারিখ শেষ হয়েছে?দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিতি নিয়ে কথা হতেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আবারও যোগাযোগ করেও এ সংক্রান্ত তার কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
পলাশতলী আমিরাবাদ দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিরুল ইসলাম বলেন,বৃহস্পতিবার সকালে শারীরিক অসুস্থার কথা জানিয়েছে তাই এদিন সে মাদরাসায় আসে নাই, পরে হাজিরা খাতায় নৈমর্ত্তিক ছুটিতে ১ দিনের ছুটি লেখে দেবো। কত তারিখ মাতৃত্বকালীন ছুটি নেয় ও কবে ছুটি শেষ হয়েছে এ প্রশ্নে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে রিপোর্ট না করার অনুরোধ করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা বলেন, প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের কোন সুযোগ নাই। শিক্ষিকা অনুপস্থিতের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর