রাত তখন সাড়ে বারোটা। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস ছুটছে রামুর কলঘর বাজার এলাকা দিয়ে। বাসের ভেতরে পঁচিশ থেকে ত্রিশজন যাত্রী- কেউ ঘুমে, কেউ জেগে অপেক্ষায় গন্তব্যের। হঠাৎ ধোঁয়ার গন্ধ, তারপর আগুনের হল্কা। জানালার কাচ ভেঙে স্থানীয়রা একে একে বের করে আনেন যাত্রীদের। বাইরে থেকে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে কিছুক্ষণের মধ্যেই। এবারের মতো প্রাণহানি এড়ানো গেছে বটে, কিন্তু পরের বার এমন সৌভাগ্য নাও থাকতে পারে। দূরপাল্লার পথে শুয়ে শুয়ে ভ্রমণের স্বপ্ন দেখিয়ে বাজার জাত করেছে যে বাহন, তার নাম স্লিপার বাস।
ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে আলোর ঝলকানি, ঝা চকচকে রঙের কারুকাজ, সরু করিডোরের দুপাশে সাজানো ছোট ছোট খোপ- কোথাও শোবার আসন, কোথাও চেয়ার। ঢাকা-কক্সবাজার-সিলেট-খুলনাসহ দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোয় এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই দোতলা বাহন। কম খরচে আরামদায়ক ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রীদের মন জয় করেছে এগুলো। কিন্তু সেই চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর অনিয়মের গল্প, যেখানে জড়িত আমদানিকারক থেকে শুরু করে বাসমালিক, বডি বিল্ডার্স, সরকারের অসাধু কর্মকর্তা এবং সড়ক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত- সবাই।
জানা গেছে, ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেঙ্গল ও ইউনিক পরিবহনের দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ যায় ৯ জনের, আহত হন অন্তত ২৪ জন। ড্যাশক্যামের ভিডিওতে ধরা পড়ে বীভৎস মুহূর্ত- নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ধাক্কা দেয় ইউনিক বাসকে, যা পরে ছিটকে পড়ে সড়কের পাশের খাদে। নিহতদের তালিকায় ছিল একটি শিশু, ছিলেন বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবীও।
এর ঠিক দশদিনের মাথায়, ১৭ আগস্ট সোমবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী রয়েল কক্সের একটি স্লিপার কোচ সামনের একটি যানবাহনকে ধাক্কা দেওয়ার পর আগুনের গ্রাসে চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে। ভাগ্য ভালো, সব যাত্রী নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছিলেন- নইলে পরিণতি হতে পারত আরও ভয়াবহ।
তারপর ২১ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাতে রামুর সেই অগ্নিকাণ্ড, যা দিয়ে এই প্রতিবেদন শুরু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠাকে দায়ী করা হচ্ছে এই ঘটনার জন্য।
শুধু আগস্টের এই তিন সপ্তাহই নয়- দুর্ঘটনার এই ধারা চলছে বহুদিন ধরে। গত ২২ মার্চ ফেনীর রামপুরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি যানবাহনে দোয়েল পরিবহনের একটি স্লিপার বাস ধাক্কা দিলে নিহত হন তিনজন, আহত হন আরও পাঁচজন। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের অ্যাম্বুলেন্সকে ধাক্কা দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট যানজট থেকে- যার মধ্যে দ্রুতগতির স্লিপার বাসটি গিয়ে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোকে। পরে পুলিশ চারটি বাস ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। এই দুর্ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ভাগ্যজনক কাকতাল নয়। প্রতিটির পেছনে লুকিয়ে আছে একই কাঠামোগত অসুখ- যা এখন গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কে বর্তমানে চলাচল করছে ৮২৯টি স্লিপার বাস, যার একটিরও ডাবল ডেকার কোচ হিসেবে চলাচলের বৈধ অনুমোদন নেই। এই সংখ্যাটি নিছক অনুমান নয়- চলতি বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্টে এক রিটের শুনানিতে খোদ বিআরটিএ নিজেই এই তথ্য আদালতকে জানিয়েছে।
প্রক্রিয়াটি রীতিমতো চমকপ্রদ এবং সুপরিকল্পিত। প্রথমে একতলা সাধারণ বাস হিসেবে বডির অনুমোদন নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়- অর্থাৎ কাগজে-কলমে সবকিছু বৈধ। এরপর সেই বাস নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কোনো গ্যারেজে, যেখানে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাঠামো বদলে একতলা বাসকে বানিয়ে ফেলা হয় দোতলা স্লিপার কোচ। ততক্ষণে বিআরটিএর নথিতে বাসটি এখনো সেই পুরোনো, অনুমোদিত একতলা রূপেই রয়ে যায়- বাস্তবে সড়কে চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যান।
হাইকোর্টে এই বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, 'একটি বাসের চেসিস আমদানি বা দেশে আসার পর প্রথমে চেসিসের অনুমোদন নিতে হয়। এরপর ওই চেসিসের ওপর বডি তৈরি করা হলে সেটিও বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু স্লিপার বাসের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। একটি অসাধু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বাসের রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, এসব বাসের অনেকগুলো তৈরি বা রূপান্তরিত হচ্ছে স্থানীয় গ্যারেজে, যেখানকার টেকনিশিয়ানদের নেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বা যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা। অনেক ক্ষেত্রে কেবল টাকার বিনিময়েই সম্পন্ন হয় এই বডি পরিবর্তনের কাজ। শুধু কাঠামো বদল নয়, আসনসংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে অস্বাভাবিক হারে। একটি সাধারণ এসি বাসে যেখানে থাকে প্রায় ৩২টি আসন, সেখানে কিছু দোতলা স্লিপার বাসকে রূপান্তর করা হয়েছে ৪৫ আসনে। একই চেসিসের ওপর বাড়তি কাঠামো, আর তার ওপর বাড়তি যাত্রী ও মালামালের সম্মিলিত ওজন- দুইয়ে মিলে চেসিসের সহনক্ষমতার ওপর তৈরি হচ্ছে বিপজ্জনক চাপ।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, 'আমাদের দেশে বেশিরভাগই সিঙ্গেল ডেকার বাসগুলোকে স্লিপার বাস বানানো হয়। এতে করে দুর্ঘটনা অবশ্যই ঘটবে। কারণ বাসের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হলে সেটিতো অবশ্যই বিপদ ঘটবে।'
তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলোর উচিত অবিলম্বে নজরদারি বাড়ানো এবং বিআরটিএর নিজস্ব ঘোষণা অনুযায়ীই এই বাসগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
এই কাঠামোগত ত্রুটির সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি টের পাওয়া যায় ঠিক দুর্ঘটনার মুহূর্তে। অধিকাংশ স্লিপার বাসে থাকে মাত্র একটি দরজা- চালকের ঠিক পেছনে। স্বাভাবিক সময়ে এটি হয়তো তেমন কোনো সমস্যা তৈরি করে না, কিন্তু আগুন লাগলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে এই একটিমাত্র বহির্গমন পথই হয়ে ওঠে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। বিপদের মুহূর্তে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজার- যারা সাধারণত দরজার কাছাকাছি বসেন। দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারলেও, বাসের ভেতরের সারিতে, ওপর-নিচের খোপে শুয়ে বা বসে থাকা যাত্রীরা থেকে যান মারাত্মক ঝুঁকিতে।
রামুর সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডেই দেখা গেছে এই একই চিত্র। আগুনের আভাস পেয়ে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার সময়মতো গাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে পেরেছিলেন, কিন্তু ভেতরে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে ভরসা করতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতার ওপর। এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে না এলে সেদিনের পরিণতি হতে পারত অনেক বেশি করুণ।
আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খানের ভাষায়, 'এভাবে যদি ব্যবস্থা চলতে থাকে, তাহলে এসব স্লিপার বাসকে চলন্ত কফিন ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।'
একের পর এক দুর্ঘটনা আর হাইকোর্টের কড়া নির্দেশনার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৯ আগস্ট বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সামির মৃধা জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত-৫ অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন স্লিপার কোচের কাঠামো তৈরি, বাসের কাঠামো পরিবর্তন এবং অবৈধ গ্যারেজ পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে। এর ঠিক আগের দিন, মঙ্গলবার রাজধানীর গাবতলীর আমিনবাজার ও মানিকনগর এলাকার বিভিন্ন বডি বিল্ডিং গ্যারেজে অভিযান চালায় বিআরটিএর আদালত-৬ ও আদালত-৩। প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্যারেজ পরিদর্শন করে চারটিকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, আটটি গাড়ি পাঠানো হয় ডাম্পিংয়ে, জব্দ করা হয় চলাচলের অনুপযোগী দুটি স্লিপার বাস। এই অভিযানেই সিলগালা করা হয় 'নিউ ডিসেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস' নামের একটি বডি গ্যারেজ। একই দিনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজারেও চলে যৌথ অভিযান- জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেল ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে।
অনুমোদনহীনভাবে আসনবিন্যাস ও কাঠামোগত রূপান্তরের এবং ফিটনেস সনদ না থাকার দায়ে লন্ডন এক্সপ্রেস, দোয়েল এক্সপ্রেস, সেন্টমার্টিন পরিবহন ও ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসসহ পাঁচটি দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয় এক লাখ টাকা জরিমানা।
বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ আব্দুল্লাহ খানের ভাষ্য, স্লিপার বাসের বিষয়ে ১১ তারিখে চিঠি পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কক্সবাজার সার্কেলেও ১৯ আগস্ট স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আব্দুল্লাহ খান বলেন, 'স্লিপার বাসের বিষয়ে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বসা হয়নি। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কীভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চিঠি পেয়ে অভিযান চলছে বটে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নীতি বা কাঠামোগত সংস্কারের কোনো রূপরেখা এখনো তৈরি হয়নি।'
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বিআরটিএর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তার ভাষ্য, 'স্লিপার বাসকে অনুমোদনহীন বলছে বিআরটিএ, কিন্তু সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এটি বিআরটিএর দ্বিমুখী আচরণ। যদি সত্যিই এসব বাস অনুমোদনহীন হয় এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই যদি এমন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'এই বাসগুলো লুকিয়ে চলাচল করে না। রাজধানী থেকে মহাসড়ক ধরে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার পথে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত, হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখের সামনে দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে এসব বাস।'
তার মতে, অনুমোদনহীন বাস চলাচল বন্ধে ব্যর্থতা আসলে বিআরটিএর নিজস্ব অযোগ্যতারই পরিচয়। একদিকে বাসমালিক আইন লঙ্ঘন করছেন। অন্যদিকে বিআরটিএ নিজেই বলছে, এসব বাসের অনুমোদন নেই। এই স্ববিরোধিতা ঠিক নয়।
হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডমিন ডিআইজি হাবিবুর রহমান খান বলেন, 'স্লিপার বাস বৈধ নাকি অবৈধ, কোন যানবাহনকে লাইসেন্স দেওয়া হবে- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। বিআরটিএ যদি কোনো যানবাহনকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশকে জানায়, তাহলে পুলিশ অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিভিন্ন সময় বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী হাইওয়ে পুলিশ এ ধরনের অভিযান পরিচালনাও করেছে।'
তার ভাষ্য, হাইওয়ে পুলিশের মূল দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; কোন যানবাহন বৈধ বা অবৈধ তা নির্ধারণ করা তাদের কাজ নয়, তবে বিআরটিএর নির্দেশনা এলে তারা সহযোগিতা করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালে হাইকোর্টে এই বিষয়ে রিট করেছিলেন আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান। চলতি বছরের ২০ আগস্ট মামলার শুনানিতে বিআরটিএ আদালতকে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের সড়কে ৮২৯টি অবৈধ স্লিপার বাস চলাচল করছে; একই সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক অভিযানের বিষয়েও অবহিত করে সংস্থাটি। রিটটি এখনো শুনানির অপেক্ষায়। গত বৃহস্পতিবারও তালিকায় ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শুনানি শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় সেদিন আর হয়নি।
হুজ্জাতুল ইসলাম খান বলেন, স্লিপার বাস চলাচলের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কোনো অনুমতি দেয়নি। বিআরটিএ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে। এমনকি আদালতেও লিখিতভাবে তারা জানিয়েছে, এ ধরনের বাস চলাচলের অনুমোদন তারা দেয়নি। বিআরটিএ চাইলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সিভিল প্রশাসনের সহায়তায় যেকোনো সময় এসব বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।' এই ইচ্ছাশক্তির ঘাটতিই এখন পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো মোটরযানের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, সিট বিন্যাস কিংবা মূল অবয়ব পরিবর্তন সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিআরটিএর এক কর্মকর্তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পরিবহন কোম্পানি আইনের তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাধারণ বাসকে স্লিপার বাসে রূপান্তর করে যাত্রী পরিবহন করছে, যার ফলে মহাসড়কে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আট শতাধিক বাস এই আইন লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে মহাসড়কে চলছে, প্রতিটি সরকারি সংস্থার চোখের সামনে দিয়ে। জরিমানা আদায় হচ্ছে, গ্যারেজ সিলগালা হচ্ছে, রিট চলছে আদালতে- কিন্তু কাঠামোগত সংকট এখনো অমীমাংসিত থেকে গেছে।
তবে যতদিন এই আলোচনা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রয়োগে রূপ না নেয়, ততদিন মহাসড়কে ছুটে চলা প্রতিটি স্লিপার বাসই থেকে যাবে একেকটি সম্ভাব্য চলন্ত কফিন- আর তার ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা জানেনও না, কতটা অনিশ্চিত তাদের এই রাতের যাত্রা। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর