যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দেশগুলোর উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন অবৈধ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা বা কার্যকরে সহায়তা দেওয়া থেকে সব দেশের বিরত থাকা উচিত। কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করে, তবে তাদেরও ওয়াশিংটনের সমান অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বার্তায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। খবর রয়টার্সের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বেআইনি, অযৌক্তিক এবং চরম নিন্দনীয়। আন্তর্জাতিক আইনি নীতি লঙ্ঘনকারী এই পদক্ষেপ ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সামিল। ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ইরানের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে বলে দাবি করে তেহরান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো রাষ্ট্র যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই বেআইনি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, তবে তারা একটি নির্দিষ্ট দেশের অবৈধ ইচ্ছাকে অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অন্যায় অপরাধে সমানভাবে অংশীদার হবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমেরিকার সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক হামলা থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক স্বার্থ রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না তেহরান।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা চালুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তায় জানান, ওয়াশিংটনের এই নির্দেশনা অমান্য করে যেসব দেশ বা সংস্থা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেন অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের কঠোর ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর